thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৩ মহররম ১৪৪০

‘বিজয়ের মাস উদযাপন করি সত্যিকার বিজয়ের প্রত্যাশায়’

২০১৫ ডিসেম্বর ০৬ ০০:২১:০১
‘বিজয়ের মাস উদযাপন করি সত্যিকার বিজয়ের প্রত্যাশায়’

মুহম্মদ আকবর, দ্য রিপোর্ট : মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই সময় কণ্ঠে বিপ্লবী সুর তুলে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীরা।

স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পর কেমন আছেন তারা? কীভাবে চলছে তাদের জীবন? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণের প্রতি কোনো পরামর্শ আছে কিনা- এ সব বিষয় নিয়ে স্বাধীনতার মাসে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাসব্যাপী আয়োজন ‘বিজয়ের মাসে’।

মাসব্যাপী এ আয়োজনের ষষ্ঠ দিনে কথা হয় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদের সঙ্গে।

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীরা তো গানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কেমন ছিল সে অভিজ্ঞতা?

স্বভাবতই আমাদের কাজ ছিল শরণার্থী ক্যাম্পে ক্যাম্পে গান গাওয়া। গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে মঞ্চ করে আমাদের গান গাওয়ানো হত। আমরা নয় মাসে পুরো পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে ঘুরে গান গেয়েছি। দিল্লিতেও একমাস ছিলাম। সেখানেও আমাদের কাজ ছিল গান গাওয়া।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতে কেমন আছেন?

যখন যে অবস্থায় থাকি সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি। অতিরিক্ত কিছু প্রত্যাশা নেই তাই হাহাকার নেই। তুমি যেভাবে জানতে চাইছ সেটার উত্তর রাজনীতিক বিবেচনায় দিতে হবে। আমি তো রাজনীতি করি না তাই ওভাবে বলা গেল না।

স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পরে দেশে নতুন কী দেখলেন?

অনেক ভাল কিছু দেখেছি। সুন্দর ভূখণ্ড, সুন্দর আকাশ ও জলবায়ু কিন্তু যা দেখে সবচেয়ে বেশি অবাক হচ্ছি সেটা হল সবাই নিজের মতো করে কাজ করে, চিন্তা করে। অন্যের দিকে তাকানোর বিষয়টা মানুষ ভুলে যেতে শুরু করেছে। কথা বলে বেশি কাজ করে কম। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল না।

কেন এমন হল?

এটা তো আর হঠাৎ করে হয়নি। মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ কেউ বোধয় এসব নিয়েই চর্চা করে। এসবের মূলে রয়েছে উপযুক্ত শিক্ষার অভাব। মানুষকে ভালবাসার শিক্ষা কেউ শিখছে না। জন্মের পর থেকেই নিজেকে রক্ষার শিক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠছে মানুষ।

বিরাজমান রাজনীতির প্রতি আপনার আস্থা কেমন?

সত্যি বলতে রাজনীতিবিদরা বিতর্কিত নানা কারণে। এক হল মানুষ যখন বার বার কিছু চেয়ে ব্যর্থ হয় তখন আর সেখানে মুখ ফেরায় না। আরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি তো আছেই। তথাপি রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে কারণ আমাদের মূল কাজটা রাজনীতিবিদরাই করে এবং করবে।

রাজনীতিবিদদের মতো কী সংস্কৃতি অঙ্গনও হতাশ করছে না?

মূল সমস্যা হল সুন্দর শিক্ষার অনুপস্থিতি। এটা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখ, আমাদের ঘাটতি ঘর থেকেই শুরু হয়। এদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্যও আইন করতে হয়। কারণ, আমরা পরিবার গঠন ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও সতর্ক না। তাই সরকার ও সংস্কৃতি অঙ্গনকে আলাদা আলাদা করে বলার কিছু নাই আগে নিজে ঠিক হতে হবে, অন্যসব চিন্তা হবে পরে।

এবারের ডিসেম্বর কে আলাদাভাবে দেখছেন?

তাতো বটেই। কারণ, বিজয়ের মাসকে উদযাপন করি সত্যিকার বিজয় পাওয়ার প্রত্যাশায়। আর বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাকে কলঙ্কিত করেছিল তাদের বিচার হচ্ছে সেই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিক অবকাঠামোগত উন্নয়নও হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তো ভাল লাগারই কথা।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে কিছু বলুন…

স্বাধীনতার ৪৪ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আমি মনে করি আমাদের তরুণ প্রজন্ম আরও অনেক দূর এগিয়ে নেবে আমাদের দেশকে। তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পঠন-পাঠনের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ কর। হানাহানি মারামারি না করে ভাল মতো পড়ালেখা কর। নিজেদের শেকড়কে শক্তিশালী করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াও। দেশের মুখ উজ্জ্বল কর।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এসবি/এমডি/ডিসেম্বর ০৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শিল্প ও সংস্কৃতি এর সর্বশেষ খবর

শিল্প ও সংস্কৃতি - এর সব খবর



রে