thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫,  ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

আ ন ম বজলুর রশীদ

২০১৫ ডিসেম্বর ০৮ ০০:০১:৫০
আ ন ম বজলুর রশীদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ আ ন ম বজলুর রশীদ ১৯৮৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও গানসহ সাহিত্যের সব শাখায় তার সদর্প বিচরণ ছিল।

আ ন ম বজলুর রশীদ ১৯১১ সালের ৮ মে ফরিদপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হারুনুর রশীদ আর মায়ের নাম নছিমুননেসা। বজলুর রশীদ ফরিদপুর জিলা স্কুলে পড়েন। ওই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মন্মথনাথ চক্রবর্তীর অনুপ্রেরণায় তিনি ইংরেজিতে কবিতা লিখতে শুরু করেন। স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে প্রবন্ধ লিখে ‘ভগবতীচরণ স্মৃতিপদক’ লাভ করেন। এটিই তার সাহিত্যের প্রথম স্বীকৃতি। তখন থেকেই কবিতা লেখার প্রতি আকৃষ্ট হন। তার চার ক্লাস উপরে পড়তেন কবি জসীমউদ্‌দীন। তিনি সে সময়ে বজলুর রশীদের কবিতা সংশোধন করে দিতেন। পরে জসীমউদ্‌দীন তার যন্ত্রস্থ ‘বালুচর’ কাব্যের ভূমিকা লেখার অনুরোধ করেন। বজলুর রশীদ তাতে সাড়া দেন।

বজলুর রশীদ ১৯৩১ সালে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৩৩ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিটি এবং ১৯৫৪ সালে এমএ পাস করেন। বিএ পাসের ২১ বছর পর এমএ পাস করার মতো ধৈর্য তিনি ধারণ করেছিলেন। এর ফলও পেয়েছিলেন। স্কুলশিক্ষক থেকে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যাপক হয়েছেন। কলেজের চাকরি থেকে ১৯৭২ সালে অবসরের পর ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ধ্বনিবিজ্ঞান পড়ানোর জন্য খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং ১৯৭৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নাট্যকার হিসেবে বজলুর রশীদের স্বীকৃত বেশি জুটলেও কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। তার প্রথম কাব্য ‘পদ্মবীণা’ (১৯৪৫)। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘পথের ডাক’ (১৯৫০), ‘শীতে বসন্তে’ (১৯৬৭), ‘রঙ ও রেখা’ (১৯৬৮), ‘এক ঝাঁক পাখি’ (১৯৬৯), ‘মৌসুমী মন’ (১৯৭০), ‘মেঘ-বেহাগ’ (১৯৭১), ‘রক্তকমল’ (১৯৭২)। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- ‘ঝড়ের পাখি’ (১৯৫৯), ‘যা হতে পারে’ (১৯৬৪), ‘উত্তর ফাল্গুনী’ (১৯৬৪), ‘সংযুক্ত’ (১৯৬৫), ‘শিলা ও শৈলী : সুর ও ছন্দ’ (১৯৬৬), ‘ত্রিমাত্রিক’ (১৯৬৬), ‘দান-কমল’ (১৯৬৯) ও ‘রূপান্তর’ (১৯৭০)। রবীন্দ্র গবেষক হিসেবেও বজলুর রশীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। রবীন্দ্র বিরোধিতাকালে লিখেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ’ (১৯৬১) নামের বই। উপন্যাস : ‘পথের ডাল’ (১৯৪৯), ‘অন্তরাল’ (১৯৫৮), ‘মনে মনান্তরে’ (১৯৬২) ও ‘নীল দিগন্ত’ (১৯৬৭)। ভ্রমণকাহিনী : ‘দ্বিতীয় পৃথিবীতে’ (১৯৬০), ‘পথ বেঁধে দিল’ (১৯৬০), ‘দুই সাগরের দেশে’ (১৯৬৭) ও ‘পথ ও পৃথিবী’ (১৯৬৭)। প্রবন্ধ : ‘আমাদের নবী’ (১৯৪৬), ‘আমাদের কবি’ (১৯৫১), ‘জীবন বিচিত্রা’ (১৯৬২), ‘পাকিস্তানের সুফীসাধক’ (১৯৬৫), ‘স্কুলে মাতৃভাষা শিক্ষণ’ (১৯৬৯), ‘ইসলামের ইতিবৃত্ত’ (১৯৭২) ও ‘জীবনবাদী রবীন্দ্রনাথ’ (১৯৭২)।

আ ন ম বজলুর রশীদ তার সাহিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভগবতীচরণ স্মৃতিপদক’ ছাড়াও বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ঢাকা বেতারের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘায়ে ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।

(দ্য রিপোর্ট/এফএস/এজেড/ডিসেম্বর ০৮, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর