thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বেতারকেন্দ্র হাসপাতালকে না দেওয়ার অনুরোধ

২০১৫ ডিসেম্বর ০৮ ০০:০৩:৫০
বেতারকেন্দ্র হাসপাতালকে না দেওয়ার অনুরোধ

মুহম্মদ আকবর, দ্য রিপোর্ট : মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন নানান শ্রেণী-পেশার মানুষ। সেই সময় কণ্ঠে বিপ্লবী সুর তুলে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীরা। স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পর নানান পেশা ও ভাবনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা। চলমান পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণের প্রতি কোনো পরামর্শ আছে কিনা- এ সব বিষয় নিয়ে স্বাধীনতার মাসে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাসব্যাপী আয়োজন ‘বিজয়ের মাসে’। স্বাধীনতার অষ্টম দিনে কথা হয় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে।

স্বাধীনতার মাসে তাঁর অনুভূতি ও উপলব্ধি জানার উদ্দেশ্যে শরণাপন্ন হলে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলেন এবং স্বাধীনতাযুদ্ধ ও দেশের ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী শাহবাগ বেতারকেন্দ্র রক্ষার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, ‘বেতারকেন্দ্রটির জায়গা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্থান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। একজন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে এটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে পুনরায় বলতে শুরু করেন— ‘জীবনে কী পেলাম আর কী হারালাম এ নিয়ে ভাবনা নেই। একজন ক্ষুদ্র শিল্পী হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বলব, এ সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিন। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেতারকেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কাজ করেছে। এখান থেকেই ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়েছে। একই বেতারকেন্দ্র থেকে জাতির জনককে হত্যার খবর প্রচার করা হয়েছে। দেশের চেতনার কতই না স্মৃতিবিজড়িত জায়গা এই বেতারকেন্দ্রটি। দেশের তিন প্রজন্মের শিল্পীদের তীর্থস্থান হয়ে যে জায়গাটি রয়েছে সেটি কি এভাবেই একটি হাসপাতালের গহ্বরে বিলীন হয়ে যাবে? সরকারের কি জায়গার এতই অভাব?’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সকল দেশে ইতিহাসকে সংরক্ষণ করার একটা প্রবণতা রয়েছে। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে বদ্ধপরিকর। তা হলে কেন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বড় সাক্ষী ও নিদর্শনকে হাসপাতালের কাছে দেওয়া হয়েছে?’

প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই শুধু নয়, ৪৮ বছর ধরে বেতারে যুক্ত থাকা একজন বেতারকর্মী হিসেবে, বিজ্ঞাপনে আমার কণ্ঠ ব্যবহার করে সর্বাধিক অর্থ পায় বেতার; এ সব অধিকার থেকে দাবি নিয়ে বলছি, রাষ্ট্রের কাছে আমার কোনো চাওয়া নেই। শুধু বলব, এ জায়গাটির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখুন। আমাদের তীর্থভূমির প্রতি কোনো প্রকারের অবিচার সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের আবেগ, ভালবাসা ও ইতিহাসের অংশকে দ্বিখণ্ডিত করবেন না।’

হাসপাতালকে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসাকেন্দ্রের জন্য জায়গার অভাব হবে না। এ রকম জায়গা অনেক পাওয়া যাবে কিন্তু এই ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না, যদি সেটা চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে যায়।’

দেশের প্রথম ইলিক্ট্রনিকস এই ভবনের স্থান পরিবর্তন করা মানে নিজের সংস্কৃতিকে স্থানান্তর করা বলে মনে করেন সনামধন্য উপস্থাপক ও অভিনেতা মাজহারুল ইসলাম।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এপি/এজেড/ডিসেম্বর ০৮, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শিল্প ও সংস্কৃতি এর সর্বশেষ খবর

শিল্প ও সংস্কৃতি - এর সব খবর