thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

বেতারকেন্দ্র’র পুরনো ভবনে হবে বেতার জাদুঘর

২০১৫ ডিসেম্বর ০৯ ০০:১১:০৮
বেতারকেন্দ্র’র পুরনো ভবনে হবে বেতার জাদুঘর

মুহম্মদ আকবর, দ্য রিপোর্ট : মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন নানান শ্রেণী-পেশার মানুষ। সেই সময় কণ্ঠে বিপ্লবী সুর তুলে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীরা। স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পর বিভিন্ন পেশা ও ভাবনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা। চলমান পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণের প্রতি কোনো পরামর্শ আছে কিনা- এ সব বিষয় নিয়ে স্বাধীনতার মাসে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাসব্যাপী আয়োজন ‘বিজয়ের মাসে’। স্বাধীনতার নবম দিনে কথা হয় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী আশরাফুল আলম-এর সঙ্গে।

মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের লক্ষ্য কী ছিল?

প্রথম কথা হল— লক্ষ্যের ব্যাপারে আমাদের কোনো মতভেদ নেই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করলেন, সে রাতেই প্রাণ ফিরে পেল বেতারকেন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধকালীন দখলদার বাহিনীকে এই মাটি থেকে সরানো। মনে রাখা ভাল, তখনকার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র যুদ্ধকেন্দ্রিক। যুদ্ধকালীন দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, জনগণের মনোবলকে অক্ষুণ্ন রাখা। এটা করেও স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের নানাবিধ কার্যক্রম মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র আরেকটি কাজ করেছে সেটি হল— শুধু বাংলা নয়, পুরো পৃথিবীর মানুষকে জানান দেওয়ার জন্য ইংরেজিতেও অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। ইংরেজিভাসী ও যারা বিদেশী সাংবাদিক ছিলেন তারা এখান থেকেই মূল খবরটা পেতেন। গান বলেন, কথিকা বলেন, নাটক বলেন সামগ্রিক বিষয় মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিল স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র।

বাংলাদেশ বেতারের কার্যক্রম নিয়ে যদি বলেন...

একটা বিষয় সবাই স্বীকার করবে, এ বেতারকেন্দ্রর অর্জন অনেক। তবে কালো অধ্যায়ও আছে। শুরুর কথা যদি বলি, আমাদের এই বেতারকেন্দ্র শুধু বিনোদন নয়, দেশের সার্বিক বিষয় যেমন কৃষি উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা বিষয়কসহ সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। সুতরাং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বেতারের অবদান অনেক। বেতারের মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন এলো যখন জাতির জনককে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেতার কাজ করতে শুরু করতে লাগল। বেতারে জাতির জনকের নাম উচ্চারিত হতো না, রাজাকার শব্দটা বলা যেত না। এর কোনো লিখিত দলিল চাইলে আমি দেখাতে পারব না। তবে যারা বেতারে কাজ করেছে তাদের সবারই বিষয়টা জানা। ষড়যন্ত্রের এখানেই শেষ নয়, বেতারের নাম পরিবর্তন করা হল। নতুন নাম দেওয়া রেডিও বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাকিস্তানের গন্ধই রেখে দিল। এই গন্ধই কেবল দুর্গন্ধ ছড়াতে লাগল। সরকারের পালাবদলে এক সময় দেশজ চেতনায় বাংলাদেশ বেতার নাম নিল। বেতার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পুনরায় কাজ করতে শুরু করল।

সম্প্রতি শাহবাগের ঐতিহ্যবাহী এই বেতারকেন্দ্রর জায়গা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

এটা ঠিক হয়নি। কিন্তু দেওয়া তো হয়ে গেছে। এরই মধ্যে সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে। দুটি সাইনবোর্ডের একটিতে লেখা আছে এ জায়গাটির মালিক বিএসএমএমইউ, আরেক জায়গায় লেখা রয়েছে বেতার জাদুঘর।

যখন সরকারের নথিপত্রে লেখা হয়ে গেছে তখন এটি আর বেতারের জায়গা নেই। আমরা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র শিল্পী পরিষদের সদস্যরা একটি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানাই যেন এখানে বেতার জাদুঘর করা হয়। গেল ৭ ডিসেম্বর শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে দেখা করেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে, বেতারের পুরনো ভবনটিই হচ্ছে বেতার জাদুঘর।

বর্তমান সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আপনার কোনো বক্তব্য আছে কি?

দেশের উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু হয়েছে। এতকাল যেটা হয়নি সেটা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধী ও জাতির জনক হত্যার বিচার করে চলেছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ একজন যুদ্ধাপরাধী এ দেশের মাটিতে বেঁচে থাকতে পারে না। সে বিবেচনায় আমি বলব সরকার তার নীতিতে অটল থেকে কাজ করছে।

অনেক কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি।

ধন্যবাদ, আপনাকে।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এপি/এজেড/ডিসেম্বর ০৯, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শিল্প ও সংস্কৃতি এর সর্বশেষ খবর

শিল্প ও সংস্কৃতি - এর সব খবর



রে