thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

মাদারীপুর মুক্ত দিবস বৃহস্পতিবার

২০১৫ ডিসেম্বর ১০ ১৫:১৮:১৪
মাদারীপুর মুক্ত দিবস বৃহস্পতিবার

মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুর হানাদার মুক্ত দিবস ১০ ডিসেম্বর। বাঙালী মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ শুধু মাদারীপুরেই হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর অন্যান্য জায়গায় পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে মিত্রবাহিনীর হাতে। তবে ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুরে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে মুক্ত হয়। এই দিন মাদারীপুরে বাঙালী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ একটি ঐতিহাসিক বিজয়।

১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী বিমান থেকে মাদারীপুরে গোলাবর্ষণ করে। ২৪ এপ্রিল সড়কপথে শহরে প্রবেশ করে এ আর হাওলাদার জুটমিলে স্থাপন করে ক্যাম্প। সেখানে এবং জেলার ১০টি স্থানে নির্যাতন ও অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে গণকবর দেয় পাক হানাদাররা।

মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে গোপনে সংবাদ পৌঁছে, ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী মাদারীপুর ছেড়ে যাবে। আর তাই হানাদার বাহিনী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে আক্রমণ করেন। পাকিস্তানি সেনারা সমাদ্দার ব্রিজের দুই পাশে আশ্রয় নিয়ে পাল্টা গুলি ছুড়তে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা আগেই সমাদ্দার ব্রিজটি এক্সপ্লোসিভ দিয়ে ভেঙে দেন। ৩ দিন ও ২ রাত সম্মুখযুদ্ধের পর ১০ ডিসেম্বর যুদ্ধের এক পর্যায়ে শত্রুর বাঙ্কারে গ্রেনেড হামলা করতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন ১৪ বছরের মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে দিশেহারা হানাদার বাহিনী এক পর্যায়ে রাইফেলের মাথায় সাদা কাপড় উড়িয়ে বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসে। পাকিস্তানি বাহিনীর মেজর আব্দুল হামিদ খটক তার মাথার টুপি ও কোমরের বেল্ট খুলে খলিল বাহিনীর কমান্ডার খলিলুর রহমান খানের হাতে তুলে দিয়ে ৩৭ জন সৈন্যসহ আত্মসমর্পণ করেন। ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যার আগে পশ্চিম আকাশে সূর্য যখন তার শেষ লাল আভা ছড়িয়ে অস্তগামী ঠিক তখনই মুক্ত হয় মাদারীপুর জেলা।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/আসা/সা/ডিসেম্বর ১০, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে