thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়তে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে

২০১৫ ডিসেম্বর ১৫ ১৭:২১:৫২
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়তে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে

মুহম্মদ আকবর, দ্য রিপোর্ট : মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই সময় সংবাদ প্রচার করে, কণ্ঠে বিপ্লবী সুর তুলে, গান লিখে কিংবা অভিনয় করে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীরা। স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পর কী ভাবছেন তারা? চলমান পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণের প্রতি তাদের প্রত্যাশা কী? এ সব বিষয় নিয়ে স্বাধীনতার মাসে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাসব্যাপী আয়োজন ‘বিজয়ের মাসে’। এরই ধারাবাহিকতায় কথা হয় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ও শিল্পী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর সঙ্গে।

কামাল লোহানী বলেন, ‘এবারের বিজয় দিবস আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধাপরাধের বিচারে এবারে যে দু’ জনকে জোড়া ফাঁসিতে ঝুলানো সম্ভব হয়েছে তারা হল— আলবদর বাহিনীর অন্যতম প্রধান আলী আহসান মুজাহিদ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাত্তরের ত্রাস, নরখাদক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এ কাজটির মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ চার দশক পর হলেও এ পর্যন্ত যে সব যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির ব্যবস্থা করেছে এবং মামলা নিষ্পন্ন হয়েছে তাতে জাতির জীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জাতীয় জীবনে যে কলঙ্ক লেপন ছিল, তা অনেকটা মুক্ত হয়েছে।’

অর্থনৈতিক বিবেচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে নিজের ভিতের উপর দাঁড়ানো। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সংগ্রাম করছে, নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আর সে কারণেই সরকারের প্রতি দেশের মানুষ গর্বিত এবং অনেকাংশে আশাবাদী। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে—বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে পদ্মা সেতু নির্মাণের যে চেষ্টা করছে, তাতে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে বাংলাদেশ। গর্বিত রাষ্ট্র হিসেবে স্থান পাচ্ছে। অর্থনৈতিক বিবেচনায় সরকারের যে অগ্রসরমানতা তা দেখে আমরা আনন্দিত, গর্বিত ও উৎফুল্ল।’

রাষ্ট্রের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে কামাল লোহানী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আমাদের যে আশার ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি তা এতক্ষণ বললাম। কিন্তু চুয়াল্লিশ বছর ধরে ধর্মনিরপক্ষেতার নামে আমাদের যে স্লোগান ছিল তা বার বার হোঁচট খেয়েছে, লাঞ্ছিত, অপমানিত ও উপেক্ষিত হয়েছে। যার ফলে অমুসলিম মানুষের সংখ্যা ৩৪ ভাগ থেকে ৮ ভাগে নেমে এসেছে। এটি নিদারুণ লজ্জার ও ঘৃণার। আমরা পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছি ধর্মনিরপেক্ষতার বাংলাদেশ গড়তে ও অমুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে। একাত্তরে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যুদ্ধ করেছি। সেই সব শহীদ অমুসলিম জনগোষ্ঠীকে অপমানিত করেছি।’

জিয়াউর রহমান ও খালেদার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা জিয়া ও খালেদার মাধ্যমে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সংগঠিত হয়েছিল, তারাই আজ দেশের নানা প্রান্তে ডালপালা গজিয়ে বসেছে, হত্যা করছে, অরাজকতার সৃষ্টি করছে। তাই শুধুমাত্র কথা বললে হবে না, দু’ একজনকে ফাঁসি দিলে হবে না; জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। যেমন করে আমরা একাত্তরে সম্মিলিতভাবে শত্রুহটাবার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, ঠিক একইভাবে কাজ করতে হবে। এর জন্য শুধু সরকারের দিকে কেবল তাকিয়ে থাকলে চলবে না, জনগণকে অনেক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে সংস্কৃতিতে, রাজনীতিতে এবং সকল প্রকার পেশাজীবী, ছাত্র, কৃষক-শ্রমিক মিলে সকল প্রকার অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এবার বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যয় হবে—জামায়াত নিষিদ্ধ ও পাকিস্তানীদের নিন্দা জানানো। শুধু নিষিদ্ধ নয়, যারা বিভিন্ন দলে প্রবেশের জন্য চেষ্টা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। ইতোমধ্যে যারা বিভিন্ন দলে প্রবেশ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে সেখান থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক তৎপরতার বিষয়ে প্রবীণ এ সাংস্কৃতিকব্যক্তিত্ব বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় থেকে আজ অবধি অবিচার বাংলাদেশের ক্ষতি করে চলেছে তা বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ। তাই এবারের বিজয় উৎসবে উল্লাসের মাধ্যমে ওদের প্রতিবাদ জানাব আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সকল প্রকার সম্পর্ক ছেদ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পাকিস্তানের অনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এপি/এনআই/ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শিল্প ও সংস্কৃতি এর সর্বশেষ খবর

শিল্প ও সংস্কৃতি - এর সব খবর