thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী

২০১৫ ডিসেম্বর ১৬ ০৪:২০:৫০
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী

জুয়েল সাহা, ভোলা : স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের দিন ১৬ ডিসেম্বর, এ দিন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালেরও জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। বুধবার তার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী।

ছোটবেলা থেকেই ডানপিটে ছিলেন মোস্তফা কামাল। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল সৈনিক হওয়ার। এতে রাজি হননি তার বাবা হাবিবুর রহমান। হাবিবুর তখনকার সেনাবাহিনীর একজন হাবিলদার ছিলেন। কিন্তু একরোখা আর ডানপিটে স্বভাবের মোস্তফা বাড়ি থেকে পালিয়ে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। প্রথমেই তার পোস্টিং হয় কুমিল্লা সেনানিবাসে। ৭১-এর মার্চের মাঝামাঝি ৪র্থ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় পাঠানো হয়।

মোস্তফা কামালের ত্যাগ ও বীরত্ব

২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার পর মেজর শাফায়াত জামিল তার গুটিকয়েক বাঙালি সেনা সদস্য নিয়ে পাক অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল খিজির হায়াত খান ও পাকিস্তান সেনাদের নিরস্ত্র করে বন্দী করেন। এই মিশনে অংশগ্রহণ নেন সিপাহী মোস্তফা কামাল।

চারদিকে একে একে শুরু হয় প্রতিরোধ। সিপাহী মোস্তফার সাহস, বুদ্ধি ও কর্মতৎপরতা দেখে মেজর শাফায়াত জামিল তাকে যুদ্ধকালীন ল্যান্সনায়েকের দায়িত্ব প্রদান করেন। মোস্তফা কামাল ১০ সৈন্যের সেকশন কমান্ডার হন। ১৬ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে চিহ্নিত করার জন্য কুমিল্লা-আখাউড়া রেললাইন ধরে উত্তরদিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী দরুইন এলাকায় পৌঁছে মুক্তিযোদ্ধাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের পশ্চাৎপদতা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। দলের সবাই পিছু হটলেও আসেননি মোস্তফা কামাল। এলএমজি দিয়ে গুলি চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে তটস্থ রাখেন তিনি। এরই মাঝে বাকি মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।

পাকিস্তানি বাহিনী এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মোস্তফা কামালকে খুঁজে না পেয়ে পুনরায় দরুইনে আসেন শাফায়াত জামিল। দেখেন গায়ে গুলি ও বেয়নেটের দাগ নিয়ে মাটিতে পড়ে আছেন মোস্তফা কামাল। তার আত্মত্যাগের কারণে বেঁচে যায় বাকি মুক্তিযোদ্ধারা। এলাকাবাসী সেখানেই এই বীরকে সমাহিত করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি

মুক্তিযুদ্ধে মহান ত্যাগ ও বীরত্বের জন্য বীরশ্রেষ্ঠের মর্যাদা পেয়েছেন মোস্তফা কামাল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৭ শহীদকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেওয়া হয়। ভোলার মোস্তফা তাদেরই একজন।

মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সাহস ও ত্যাগ নিয়ে আমি গর্ব করি। আমি এমন এক ছেলেকে গর্ভে ধরেছি যে অনেক আগে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আজও তাকে এ দেশের মানুষ ভোলেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোস্তফা দেশের জন্য হাসিমুখে তার জীবন দিয়েছে। এ দেশের মানুষ কোনো দিন তাকে ভুলবে না।’

বর্তমানে ভোলা সদরের আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে বাস করেন মোস্তফা কামালের বৃদ্ধা মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

ভোলার জেলা প্রসাশক মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা ভোলাবাসীরা অত্যন্ত গর্বিত যে, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল এই ভোলারই সন্তান। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সর্বক্ষণ বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

(দ্য রিপোর্ট/এসকে/ডিসেম্বর ১৬, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর