thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৩ মহররম ১৪৪০

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্ষবরণ

২০১৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:৩৬:৫৩
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্ষবরণ

মুহম্মদ আকবর, দ্য রিপোর্ট : এমন দৃশ্য বিরল। মঞ্চে শিল্পী আর দর্শকের আসনে শুধুই সাংবাদিক। এমন মঞ্চে নিজের পরিবেশনা শিল্পীর জন্য চ্যালেঞ্জও বটে। একের পর এক পরিবেশনার পর শিল্পী ও দর্শকদের বোঝাপড়া দেখে মনে হবে— পারঙ্গম শিল্পীর জন্য এমন দর্শকই হয়তো কাম্য।

আয়োজনে ছিল বৈশাখের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ প্রতিশ্রুতিশীল সঙ্গীত শিল্পীর কণ্ঠে গান, গানের সঙ্গে নৃত্য, দেশের খ্যাতিমান বাচিক শিল্পীদের কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি এবং ‍সবশেষে ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের অনবদ্য পরিবেশনা।

নান্দনিক এ উৎসবের মধ্য দিয়ে আয়োজক সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) যেন বাঙালির হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যের পরিচয় দিচ্ছিল। তাই এমন আয়োজনে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনীতিক অঙ্গনের অনেকে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন। কেউবা এসেছিলেন প্রাণের টানে।

এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বুধবার সকালে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। স্বভাবজাত ভঙিমায় তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব। এ উৎসব বাঙালির হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির বাহন ও প্রকাশ-মাধ্যম। এ উৎসব পালন করলে ইমান নষ্ট হয় না। বরঞ্চ মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।

এ সময় আরও এসেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, ফুটবল ফেডারেশনের পরিচালক ফজলুর রহমান। উদ্বোধনী আয়োজনের পর সাংস্কৃতিক আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে প্রাণের টানে এসে আয়োজকদের স্বাগত জানাতে আসে অনেকে।

এদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস ‍সোবহান গোলাপ, বিএনপি নেতা রহুল কবীর রিজভী।

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, 'মিথ্যা, অহংকার, হতাশাসহ সকল কালিমা উড়িয়ে দিয়ে নতুন চিন্তায় একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলা নববর্ষর আজকের দিনে এমন প্রত্যাশ করি।'

অনেকটা একইভাবে বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন। তিনি বলেন, 'এটি এমন এক উৎসব যেখানে মানুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে উদযাপন করে। এই চেতনায় শান্তি হয়ে বাঙালি সব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হবে এ প্রত্যাশা করি।'

সকাল ১০টায় ডিআরইউ সভাপতি জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন। সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম।

সাংস্কৃতিক পর্বে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিতে করেন উপস্থিত সাংবাদিক। লোক গানের মুগ্ধ করেন শিল্পী কুদ্দুছ বয়াতী, নব্বই দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী রুকসি, প্রবাসী লোকশিল্পী আরিফ রানা, প্রায় শূন্য ব্যান্ড, এ সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী পারভেজ, শাহনাজ বাবু, রূপা খন্দকার, সাবা, রূপা প্রমুখ। এ ছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা ও ইমদাদুল হক খোকনের দল।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র সারাগাম স্কুলের শিশুরা নাচে গানে পুরো আয়োজনকে মাতিয়ে রাখে। আবৃত্তিপর্বে অংশ নেন খ্যাতিমান বাচিক শিল্পী আহকাম উল্লাহ, মাহিদুল ইসলাম। সবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দল নিয়ে আসে তাদের অনবদ্য পরিবেশনা। তাদের শারীরিক কসরতের মাধ্যমে প্রায় এক ঘণ্টা দর্শকদের বিমোহিত করে রাখে। বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ হয় পেশাদার সাংবাদিকদের এ বর্ষবরণের আয়োজন।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এসবি/এনআই/এপ্রিল ১৪, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

গণমাধ্যমের খবর এর সর্বশেষ খবর

গণমাধ্যমের খবর - এর সব খবর



রে