thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ও মাসুদ পথিকের বয়ান

২০১৬ এপ্রিল ২০ ১৭:০৬:৪২
নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ও মাসুদ পথিকের বয়ান

মাসুম আওয়াল, দ্য রিপোর্ট : কাহিনী নকলের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুরাদ পারভেজের চলচ্চিত্র ‘বৃহন্নলা’র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে ২০১৪ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’। পাশাপাশি মিলেছে শ্রেষ্ঠ প্রযোজকের পুরস্কারও।

আগে পাঁচটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি। সেগুলো হলো- শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ড. সাইম রানা, সেরা কণ্ঠশিল্পী মমতাজ (নিশিপক্ষী ও নিশিপক্ষীরে তোর..), শ্রেষ্ঠ গীতিকার মাসুদ পথিক (নিশিপক্ষী ও নিশিপক্ষীরে তোর..), শ্রেষ্ঠ সুরকার বেলাল খান (নিশিপক্ষী ও নিশিপক্ষীরে তোর..) ও শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান আবদুর রহমান।

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মাসুদ পথিক বলেন, ‘আসলে যে কোনো পুরস্কার পাওয়া অনেক আনন্দের। খুব ভালো লাগছে। আমার ‘নেকাব্বরের মহাপ্রায়াণ’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। এটা চাষাদের (কৃষক) গল্প। নেকাব্বর একজন মুক্তিযোদ্ধা কৃষক। আমার এ পুরস্কার ওই চাষাদের (কৃষক) উৎসর্গ করছি, যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আমাদের গৌরবান্বিত করেছেন।’

প্রতিটা সৃজনশীল কর্মের পেছনেই অনেক সংগ্রাম থাকে। সেই লড়াই এর মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। মাসুদ পথিক বললেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাওয়ার পরও আমি কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। নেকাব্বরের এই পুরস্কারটি প্রাপ্য ছিল। দেরিতে হলেও জুরিবোর্ড এটা বুঝেছে এ কারণে ভালো লাগছে।’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ডে যারা থাকেন তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ পথিক বলেন, ‘তাদের আমি কোনো অ্যাডভাইস দিতে চাই না। সবার সীমাবদ্ধতা থাকে। পৃথিবীর সব গল্প তো আর পড়া সম্ভব না। পরে যখন এটা নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। জুরিবোর্ড তখন ঠিকই পদক্ষেপ নিয়ে দায়িত্ববানের পরিচয় দিয়েছে। জুরিবোর্ডকে সাধুবাদ জানানো উচিত তারা একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। পরবর্তী জেনারেশন যারা গল্প লিখবে তাদের জন্য অনেক ভালো হবে। মৌলিক গল্প প্রাধান্য পাবে। যারা প্রকৃত পক্ষে লেখক তারা সমাদৃত হবে।’

বর্তমানে আরও দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন মাসুদ পথিক। এর মধ্যে একটি হলো কবি নির্মলেন্দু গুনের কবিতা মানুষ ও নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অমলকান্তি অবলম্বনে ‘দ্য পোয়েট্রি কবি গাছ’ এবং চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিনের পেইন্টিং অবলম্বনে ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৪’ ঘোষণা করে সরকার। সেখানে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ছাড়াও আরও দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নেয় ‘বৃহন্নলা’। কিন্তু অভিযোগ ওঠে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুরাদ পারভেজের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘বৃহন্নলা’র মূল কাহিনী পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ছোটগল্প ‘গাছটি বলেছিল’ থেকে নেওয়া। ছবিতে মুরাদ পারভেজ কাহিনিকার হিসেবে নিজের নাম ব্যবহার করেছেন।

পরে তথ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আদেশে বলা হয়, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪’ এর তিনটি ক্ষেত্রে ‘বৃহন্নলা’ চলচ্চিত্রের অনুকূলে ঘোষিত তিনটি পুরস্কার- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার (মুরাদ পারভেজ) ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার (মুরাদ পারভেজ) বাতিল করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’, শ্রেষ্ঠ প্রযোজক মাসুদ পথিক (নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ), শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (মেঘমল্লার) ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা জাহিদুর রহিম অঞ্জনকে (মেঘমল্লার) নির্বাচিত করা হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/এএ/এফএস/এম/এপ্রিল ২০, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর