thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৩ মহররম ১৪৪০

মহান মে দিবসের প্রত্যাশা

উৎপাদন-বণ্টন ব্যবস্থায় শ্রমিকের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন

২০১৬ মে ০১ ১৭:০০:৫৮
উৎপাদন-বণ্টন ব্যবস্থায় শ্রমিকের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন

আমানউল্লাহ আমান, দ্য রিপোর্ট : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে ১৩০তম আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করছে ট্রেড ইউনিয়নসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো। তবে দীর্ঘ এ সময়ে বাংলাদেশে মে দিবসের বাহ্যিক দাবিগুলো স্বীকৃতি পেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বিদ্যমান শ্রম আইনগুলোও লঙ্ঘিত হয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শ্রমিকের অংশীদারিত্বমূলক গণতান্ত্রিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক-ইন সেন্টারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির তিন বছর পূর্তিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পঞ্চম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই দিনই ‘রি-ইমার্জি ফ্রম দ্য রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি : অ্যান অ্যাকাউন্ট অন দ্য থার্ড অ্যানিভার্সারি’ শীর্ষক সংলাপে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যবস্থা ও মালিকানায় শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাতে হবে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি’র মত দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে কিছু বিষয়ের উপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদন ব্যবস্থাসহ কারখানার চারপাশের পরিবেশের নজরদারী জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যে পর্যবেক্ষেণ দুর্বলতা আছে তা থেকে উত্তোরণ ঘটাতে হবে। তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না। উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভব হলে শ্রমিকদের মালিকানায় অংশীদারিত্ব করতে হবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত হওয়ার, সম্মিলিত দরকাষাকষি করা ও শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এমনিতে মালিকরা বলে থাকেন, নীট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেবেন। নিরাপত্তা কমিটিতে শ্রমিকদের রাখার আইন থাকলেও রাখা হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমিকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক অধিকারই পান না। তবে উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব হলে সেটা অত্যন্ত ভালো হবে।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘মে দিবসের আন্দোলন ছিলো মজুরি দাসত্ব থেকে শ্রমিকের মুক্তি। তা তো হয় নাই বরং আট ঘণ্টা কর্ম বিধানও বাস্তবায়িত হয়নি। শ্রম আইনগুলো শ্রমিক স্বার্থবিরোধী। ২০১৫ সালে ৪০ হাজারেরও বেশি শ্রম আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। শ্রম আইন শ্রমিকদের পক্ষে নয়। সরকার মালিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনযোগী।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে সকল মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা দরকার। শুধু ব্যালট পেপারে সিল মারলেই গণতন্ত্র হয় না। উৎপাদন ও বিলি-বণ্টন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু ভাবে কারখানা পরিচালনায় শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি বেসরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শ্রমিকদের দূরে রেখে যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তাতে মে দিবসের তাৎপর্য লঙ্ঘিত হচ্ছে। স্বাধীন দেশে শ্রমিকদের যে ভূমিকা থাকার কথা তা না করে উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা থেকে দূরে রেখে গণতন্ত্রের কথা বলা গলাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘মহান মে দিবসের শ্রমিকদের জন্য শ্রমিকদের মজুরি যুগপোযোগী করা, ইপিজেডসহ সকল কলকারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এবং কারখানা ও সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শ্রমিক-কর্মচারী ও মালিকদের যৌথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিক-কর্মচারী ও মালিকদের যৌথ ব্যবস্থাপনা টিকিয়ে রাখা ও উত্তর উত্তর বিকাশের জন্য জাতীয় সংসদেও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

(দ্য রিপোর্ট/এইউএ/এনটি/এসবি/মে ০১, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

মহান মে দিবস ২০১৬ এর সর্বশেষ খবর

মহান মে দিবস ২০১৬ - এর সব খবর



রে