thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

যাদু মিয়ার ৯২তম জন্মদিন শনিবার

২০১৬ জুলাই ০৮ ১৬:১২:১৫
যাদু মিয়ার ৯২তম জন্মদিন শনিবার

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ৯ জুলাই (শনিবার) প্রগতিশীল, জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বলিষ্ঠ নেতা বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রাক্তন চেয়াররম্যান,সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৯২তম জন্মবার্ষিকী।

অনন্য প্রতিভার এই জননেতা ১৯২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীল রংপুর জেলা আজকের নীলফামারী জেলার ডিমলার খসাখড়ীবাড়ীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওসমান গনি ও মা আবিউননেছা তৎকালীন সমাজে ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

যাদু মিয়া ১৯৪০-এর শেষের দিকে ইয়াং ম্যান এসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন। ৫০-দশকের শেষ দিকে রংপুর জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ন্যাপে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলের উপনেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এবং জাতীয় পরিষদে স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য তাকে গ্রেফতার করে। ৬৬ সালে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে গণআন্দোলনের যে সূচনা হয়েছিল সেখানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

৬০-এর দশকের শেষের দিকে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ও আইয়ুববিরোধী ১১ দফা আন্দোলনে জাতীয় পরিষদের ভিতরে ও বাইরে সোচ্চার দাবি উপস্থাপন করেন এবং আন্দোলনের পক্ষে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৬৯ সালে লায়ালপুরে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে গাদ্দার বলার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পল্টনে স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে যাদু মিয়া মওলানা ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জনসভায় ন্যাপের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্বাধীনতাপরবর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘসময় কারাগারে বন্দি থাকার পর ১৯৭৫ সালে নভেম্বর মাসে তিনি কারামুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে ভারতের পানি আগ্রাসন ও ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয়ে প্রথমে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

০৯ জুলাই (শনিবার) বাংলাদেশ ন্যাপ নীলফামারীর ডোমার-ডিমলায় মসজিদে মসজিদে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৬ জুলাই দলের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে যাদু মিয়ার স্মরণে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/এএসটি/এনআই/জুলাই ০৮, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর



রে