thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

কবি আল মাহমুদের জন্মদিন আজ

২০১৬ জুলাই ১১ ১৪:৩২:২৮
কবি আল মাহমুদের জন্মদিন আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : সোনার দিনার নেই/ দেনমোহর চেয়না হরিণী/ যদি নাও দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দুটি/ আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনোকালে সঞ্চয় করিনি/ আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি….. কবিতার লেখক আল মাহমুদ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি, ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার ১৯৩৬ সালের এ দিনে (১১ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

গত শতকের মধ্যভাগ থেকে তুলনাহীনভাবে লিখে চলেছেন আল মাহমুদ। তার কবিতায় শব্দের ব্যবহার, উপমা-উৎপ্রেক্ষা ও চিত্রকল্প বাংলা কবিতাকে দিয়েছে নতুন দিগন্ত। একইসঙ্গে কথাসাহিত্যেও তার অবদান মৌলিক। তিনি অনেক বছর সাংবাদিকতার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

তার পুরো নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ভাষা কমিটির একটি লিফলেটে তার চার লাইন কবিতা উদ্ধৃত করা হয়। সেই অপরাধে ফেরার হয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় ঢাকায় আসেন ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

১৯৫৪ সালে ঢাকা এসে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘কাফেলা’য় লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ নেন। ১৯৫৫ সালে কাফেলার সম্পাদক হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় যুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকণ্ঠে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু পত্রিকাটি সরকারি রোষে পড়ে এবং তিনি জেলবন্দী হন। ১৯৭৫ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শিল্পকলা একাডেমিতে প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর চট্টগ্রামের দৈনিক কর্ণফুলীতে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকায় আসার আগেই আল মাহমুদের কবিতা প্রকাশিত হয় কলকাতার সাহিত্য, চতুষ্কোণ, চতুরঙ্গ, ময়ূখ ও কৃত্তিবাসে। সে সুবাদে ঢাকা ও কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম পরিচিত ছিল। প্রথম কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) তাকে বাংলা কবিতার প্রথম সারিতে জায়গা করে দেয়। প্রকাশকরা সে সময় তরুণ কবিদের কবিতার বই প্রকাশ করতে চাইতেন না। কয়েকজন তরুণ কবি ও সাংবাদিক চাঁদা দিয়ে ‘কপোতাক্ষ’ নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা গঠন করে। সেখান থেকে ‘লোক লোকান্তর’ প্রকাশিত হয়। তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালী কাবিন’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। বাংলা কবিতার ইতিহাসে কাব্যগ্রন্থটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এতে লোকজ ও আঞ্চলিক শব্দের সমন্বয়ে উদ্ভাবন করেন এক নতুন জাদুময়তা। যা আজো পাঠককে মুগ্ধ করে রাখে।

তবে আল মাহমুদের সাহিত্য জীবন শুরু হয়েছিল গল্প দিয়ে৷ ১৯৫৪ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগ পত্রিকায় প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়। তারপর দীর্ঘদিন গল্প লিখেননি। দৈনিক গণকণ্ঠ সম্পাদনার সময় বেশ কিছু গল্প লিখেন। বিভিন্ন পত্রিকায় গল্পগুলো প্রকাশিত হলে ব্যাপক প্রশংসিত হন। ১৯৭৫ সালে প্রথম ছোটগল্পের সঙ্কলন ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে বের হয় প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’।

আল মাহমুদ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭২), হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), সুফী মোতাহের হোসেন সাহিত্য স্বর্ণপদক (১৯৭৬), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (১৯৮৭), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০) ও ভানুসিংহ সম্মাননা পদক ২০০৪৷

তার স্ত্রী প্রয়াত সৈয়দা নাদিরা বেগম৷ এ দম্পতির পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে।

সূত্র : ইন্টারনেট।

(দ্য রিপোর্ট/এফএস/এনআই/জুলাই ১১, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর