thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫,  ৯ মহররম ১৪৪০

ইঙ্গমার বারিমানের জন্মবার্ষিকী

২০১৬ জুলাই ১৪ ১১:৩০:৫১
ইঙ্গমার বারিমানের জন্মবার্ষিকী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা নির্মাতাদের অন্যতম ইঙ্গমার বারিমান (ইংরেজিতে বার্গম্যান)। এ চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্য লেখক ও প্রযোজক ১৯১৮ সালের এ দিনে (১৪ জুলাই) সুইডেনের উপসালায় জন্মগ্রহণ করেন।

ইঙ্গমারের বাবা ছিলেন লুথারান মন্ত্রী। তিনি খুব কম বয়সেই মঞ্চ নাটকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ছোটবেলায় বাড়িতে নিজে নিজে পাপেট শোর আয়োজন করতেন। ইঙ্গমার স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য ও শিল্প নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, এখানে থাকতেই প্রথম মঞ্চ পরিচালনা শুরু করেন। ছাত্রাবস্থায় বেশ কিছু নাটক পরিচালনা করেন, অভিনয়ও করেছিলেন। কলেজ শেষে ১৯৪০-এর দশকে একটি মঞ্চের দায়িত্ব নেন এবং বেশ কিছু নাটক লিখেন।

পরিচালনার আগে ইঙ্গমার চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেছিলেন। তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার নাম ‘দ্য ডেভিলস ওয়ান্টন’ (১৯৪৯)। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন কমেডি ‘স্মাইলস অব আ সামার নাইট’ (১৯৫৫) এর মাধ্যমে। ১৯৫৭ সালে নির্মাণ করেন বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ ও ‘দ্য সেভেনথ সিল’। সেভেনথ সিলের কাহিনী চতুর্দশ শতকের, যুদ্ধ শেষে এক নাইট তার অনুচরকে নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত গ্রামের মধ্য দিয়ে জন্মভূমিতে ফিরছে। এই যাত্রাপথে তার সঙ্গে মৃত্যুর দেখা হয় এবং মৃত্যুর সঙ্গে দাবা খেলা শুরু করেন। এটাকে চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৬০ এর দশকের প্রথম দিকে ইঙ্গমার একাডেমির স্বীকৃতি পান। তার ‘দ্য ভার্জিন স্প্রিং’ (১৯৬০) ও ‘থ্রু আ গ্লাস ডার্কলি’ (১৯৬১) দুটিই সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পায়। পরে ‘ফ্যানি এ্যান্ড আলেকজান্ডার’ (১৯৮২) এর জন্যও একই বিভাগে অস্কার পান। সমালোচকরা ‘থ্রু আ গ্লাস ডার্কলি’কে তার একটি ট্রিলজির অংশ হিসেবে দেখেন, অন্য দুটি হচ্ছে ‘উইন্টার লাইট’ (১৯৬২) ও ‘দ্য সাইলেন্স’ (১৯৬৩)। ট্রিলজি বলার কারণ হলো তিন সিনেমাতেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব, বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা, ভালোবাসার ক্ষমতা, মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের অক্ষমতা ইত্যাদি অধিবিদ্যক প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা হয়েছে। অনেকে এই তিনটিকে ‘গড ট্রিলজি’ বলেন।

ইঙ্গমারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘পারসোনা’ (১৯৬৬), ‘শেইম’ (১৯৬৮), ‘ক্রাইস এ্যান্ড হুইসপারস’ (১৯৭২), ‘সিনস ফ্রম আ ম্যারিজ’ (১৯৭৩), ‘অটাম সোনাটা’ (১৯৭৮), ‘ফ্যানি এ্যান্ড আলেকজান্ডার’ (১৯৮২) ও ‘আফটার দ্য রিহার্সাল’ (১৯৮৪)।

তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে— আত্মজীবনী ‘দ্য ম্যাজিক ল্যান্টার্ন’ (১৯৮৮), স্মৃতিকথা ‘ইমেজেস : মাই লাইফ ইন ফিল্ম’ (১৯৯৪) এবং আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘দ্য বেস্ট ইনটেনশনস’ (১৯৯৩), ‘সানডেস চিলড্রেন’ (১৯৯৪) ও ‘প্রাইভেট কনফেশনস’ (১৯৯৬)।

ইঙ্গমারের পাওয়া অনেক অনেক পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হলো ‘আরভিং থ্যালবার্গ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’, একাডেমি অব মোশন পিকচার্স আর্টস এ্যান্ড সায়েন্সেস। ১৯৭০ সালে তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করে।

ইঙ্গমার বারিমান ২০০৭ সালের ৩০ জুলাই ফারো দ্বীপে মারা যান।

সূত্র : বিজ্ঞানীপুরী।

(দ্য রিপোর্ট/এফএস/এসবি/এনআই/জুলাই ১৪, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

এই দিনে এর সর্বশেষ খবর

এই দিনে - এর সব খবর



রে