thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৩ মহররম ১৪৪০

মাছেভাতে বাঙালি

২০১৬ জুলাই ২০ ০০:০৯:৩৫

প্রাণী ও মৎস্য সম্পদমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। যদিও এ ব্যাপারে তিনি তার সরকারের ভূমিকার কথা বলতে যেয়ে এ কথা বলেছেন। তবে তার কথায় বোঝা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ এখন আর মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ নেই। মন্ত্রীর এই ভবিষ্যৎ বাণী ফললে আমরা খুশি হবো।

কিন্তু মন্ত্রীর এই বয়ানের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন এসে যায় বাংলাদেশ কেন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বাংলাদেশের তো মাছ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশ হওয়ার কথা। প্রবাদে আছে মাছেভাতে বাঙালি। এই প্রবাদ যে শুধু প্রবাদ নয় নিরেট সত্য। বাংলাদেশের যে কোনো বয়ষ্ক মানুষই তা জানেন। নদী মাতৃক এই দেশে শুধু নদী নয় রয়েছে হাজার হাজার খাল বিল নদী নালা, যার অনেকগুলোর নাম রয়েছে মাছের নামের সাথে। তাছাড়া কোথায় কোনো মৌসুমে কি জাতের মাছ মেলে তা নিয়ে রয়েছে অসংখ্য গল্প। কিন্তু তার সবই আজ স্মৃতি। কারণ গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অধিকাংশ নদ-নদীই মারা গেছে। শুকিয়ে গেছে খালবিল হাওড়। এসবের কারণ সবারই প্রায় জানা।

এই নদী-নালা-খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ার পর সেগুলোর অনেকই মানুষের দখলে চলে গেছে। সেখানে গড়ে উঠছে নানা স্থাপনা অথবা কৃষি খামার। এদিকে বাদবাকি চারণ ভূমি থেকে হারিয়ে গেছে অসংখ্য প্রজাতির সব সুস্বাদু মাছ। মাছের ঘাটতি হওয়ায় আমাদের নতুন প্রজন্ম অনেক ক্ষেত্রে মাছ খাওয়াই ভুলে গেছে। তারপরও দেশে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছের যোগান কমে যাওয়ায় দেশে কিছু মানুষ নানা দেশি-বিদেশি জাতের মাছ চাষ করে সে চাহিদা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে রয়েছে নানান ধরনের ব্যবসার সম্পর্ক। এক শ্রেণির পুঁজিপতিরা এ খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হচ্ছে।

বলা যায় মাছ এখন যত না প্রাকৃতিক সম্পদ তার চেয়ে বেশি বড় বড় বিত্তবানদের উৎপাদিত পন্য। মন্ত্রী মৎস্য সম্পদ সম্পর্কে যে ভবিষ্যৎ বাণী করেছেন সেটা আসলে বড় লোকের বাণিজ্যিক পণ্য। মাছেভাতে বাঙালির সেই মাছ নয়। তারপরও আমরা খুশি এই বলে যে কিছুটা হলে এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমাদের অতীতকে মনে করিয়ে দেবে।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert


রে