thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

এবার কর্নাটকে

২০১৬ জুলাই ২৪ ২২:৫৫:১২

কর্নাটকে নিম্ন বর্ণের এক হিন্দু পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে। আহত কয়েকজনের অবস্থা বেশ মারাত্মকও। ঘটনা ঘটার বেশ কয়েক দিন পর জানাজানি হয়েছে বিষয়টি। পুলিশের কাছে অভিযোগ গেলে পুলিশ হামলাকারীদের কয়েকজনকে আটক করলেও সহসাই আটককৃতরা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়।

এর কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে কয়েকজন নিম্ন বর্ণের হিন্দু যুবককে মারপিট করা হয়। সে দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করে ইন্টারনেটে ছাড়ে হামলাকারীরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল―অন্যদের ভয় দেখানো। কিছুদিন আগে আগ্রায় কয়েকজন মুসলিম পরিবহন শ্রমিককে মারপিট করে জোরপূর্বক গোবর খাওয়ানো হয়। তারও আগে এক মুসলিম ট্রাকচালককে খুন করা হয় হিমাচলে। কাশ্মীরে এক মুসলিম এমএলএকে মারপিট করেন এক হিন্দু এমএলএ। বিশ্ববিদ্যালয়েও মুসলিম ছাত্ররা নাজেহাল হন। এর আগে উত্তর প্রদেশের দাদরি নামক গ্রামে এক মুসলমান বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে ওই বাড়ির মালিক আখলাক মারা যান। তার যুবক ছেলেটি মারাত্মক জখম হয়। পরিবারের মহিলা সদস্যরা কমবেশি আহত হয়। পরে পরিবারটি নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমায়। এই সব ঘটনার পেছনে কাজ করেছে একটি গোড়া ধর্মীয় গোষ্ঠী। এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একবিংশ শতকের সেক্যুলার ভারতে। আর এই হামলার পেছনে কাজ করছে ওই ধর্মীয় গোষ্ঠীর ধর্ম রক্ষার তাগিদ। নানা নামে ও পরিচয়ে এই গোষ্ঠীটি গরু রক্ষার ব্রত নিয়ে সারা ভারত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোথাও তারা আইন করে গরু খাওয়া বন্ধ করেছে। দরকার মনে করলে নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। ভারতীয় সমাজের উদারপন্থী অংশটি এই কাজের বিরোধিতা করলেও নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার রয়েছে এদেরই সাথে। সে কারণে তারা এখন বেপরোয়া।

গণতান্ত্রিক ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায়ে যেকোনো দল ক্ষমতায় আসতে পারে। সেখানে গরু রক্ষাও রাজনীতির বিষয় হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পবিত্র গরু রক্ষার জন্য মানুষের অবস্থানকে মানবেতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে কি না?

পাঠকের মতামত:

SMS Alert