thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

নেপালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা?

২০১৬ জুলাই ২৬ ০০:০১:৩৬

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি পদত্যাগ করেছেন। তার জোটসঙ্গী সমর্থন প্রত্যাহার করায় তিনি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কে পি ওলির এই পদত্যাগে নেপালে কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তা এখনও জানা যায়নি। রবিবার পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দেওয়া তার ভাষণে আশংকা প্রকাশ করেছেন তার সরকারের পদত্যাগে নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ঐ ভাষণে তিনি তার জোটসঙ্গী নেপালী কংগ্রেস ও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। একই ভাষণে তিনি তার সরকারের সময় ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তার সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন।

তবে সমর্থন প্রত্যাহারের ব্যাপারে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা প্রচন্ড অভিযোগ করেছেন, নেপালে গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার দলের যোদ্ধাদের বিরূদ্ধে যে সব মামলা হয়েছিল তাদের মামলা তুলে নেওয়া হবে বলেই তিনি ওলিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সরকার কথা রাখেনি বলেই তিনি সমর্থন প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছেন। এই দুটি দল ছাড়া আরও কয়েকটি ছোট দলও কে পি ওলির প্রতি তাদের সমর্থন তুলে নিয়েছিল।

এটি ঠিক যে এক সংকটময় সময়েই ওলি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটি বড় ধরনের ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব পড়েছিল। তার চেয়েও বড় যে বিষয়টি কে পি ওলিকে মোকাবেলা করতে হয়েছে তা হলো নেপালের দুই পরস্পর বিরোধী প্রতিপক্ষ ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ। অভ্যন্তরীণভাবে তাকে ভারত সমর্থিত মাধেসীদের আন্দোলন যেমন মোকাবেলা করতে হয়েছে তেমনি আবার ভারত সীমান্তে ভারত থেকে আসা নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আটকে দেওয়ার মত সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাকে এটাও মনে রাখতে হয়েছে ভারতের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে যেয়ে যাতে চীনের উপর নেপাল নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। সব পরিস্থিতিকে ঠিকমত সামলাতে পারলেও নিজের পা সামলাতে পারলেন না মি ওলি। আর তাতেই তার জোটসঙ্গীরা তার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেন।

কে পি ওলির আশংকা, তার এই পদত্যাগের কারণে যদি নেপালে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয় তা হলে হালে গণতন্ত্রের পথে হাঁটা হিমালয় কন্যার পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয়ও রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনেক বড় বড় সংকট নেপাল যেভাবে মোকাবেলা করে আজকের জায়গায় পৌঁছেছে তাতে ওলির আশংকা অমূলকই প্রমাণ হবে বলেই আমরা আশা করি।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert


রে