thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

হারিয়ে গেছে বর্ষাকাল, এসেছে বন্যা

২০১৬ আগস্ট ০১ ২৩:৪২:০১

মিডিয়ার খবর, দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সেখানকার জনজীবন বন্যার কারণে বিপর্যস্ত। বন্যার পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কোথাও কোথাও। অনেক স্থানে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচুস্থান বা রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তৈরি রয়েছে। কোথাও কোথাও ত্রাণ বিতরণ করা শুরু হয়েছে।

মূলত প্রধান প্রধান অনেক নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় পাড়ের জনপদে বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনা, পদ্মা ও এই নদীগুলোর শাখা নদীর পাড়েই পরিস্থিতি বেশি খারাপ। যদিও কোনো কোনো এলাকার উজানে পানি কমলেও ভাটিতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

নদীমাতৃক পূর্ব বাংলা বা আজকের বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এক সময় বন্যা ছিল প্রকৃতির এক অবিচ্ছিন্ন অংশ। বর্ষাকালের বাংলা মানে এক অপরূপ প্রকৃতি। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে নদীগুলো ভরে পাড় উপচে বা খাল-নালা দিয়ে বানের পানি ঢুকে পড়ত বিল বা নিচু এলাকায়। পরে ঢুকতো গ্রামগুলোতে। বন্যার পানিতে একটি বাড়ি থেকে অন্য একটি বাড়ির ভিটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। প্রতিটি বাড়ি হয়ে যেত যেন এক একটি আলাদা দ্বীপ। জনযোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠত নৌকা, ডোঙ্গা বা ভেলা। আমন ধান পানি বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠে সবুজে ভরিয়ে দিত মাঠ। ফাঁকা বিল ভরে যেত শাপলা আর নানা জলজ উদ্ভিদে। মাছে ভরে যেত নদী-নালা ও খাল-বিল, বাড়ির আনাচ-কানাচ। মাছ ধরা, ঘাটের নৌকায় উৎপাদিত ধান পাট বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে হাট বাজারে বেচাকেনা ছিল গৃহস্থের প্রধান কাজ। আর আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে নৌকা করেই বেড়ানো ছিল গৃহস্থ বাড়ির মেয়েদের প্রধান বিনোদন। গঞ্জগুলোতে হতো নৌকা বাইচ। বেদে-বেদেনীরা চুড়িফিতা আর পালেরা তাদের তৈরি মাটির হাঁড়ি-পাতিল-বাসন-কোসনসহ নানা তৈজসপত্র নিয়ে গৃহস্থের বাড়ির ঘাটে নৌকা ভিড়াত। ধানচাল বা নগদ অর্থ দিয়ে গৃহস্থ বাড়ির বৌরা তা কিনত। এই তো ছিল বাংলার বর্ষা বা বন্যার চিত্র।

আজ কোথায় সেই বর্ষাকাল, কোথায় সেই অতি কাঙ্ক্ষিত বন্যা?

আজ বন্যা মানে খবরের কাগজ বা মিডিয়ায় মানুষের দুর্ভোগের বর্ণনা। দেশ বা রাষ্ট্র যারা চালান তারাই বিদেশিদের পরামর্শে বা তাদের দেওয়া লোভনীয় প্রস্তাবে আজ এক বদ্ধ বাংলা বানিয়েছে। যেখানে সমস্ত নদী তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ দিয়ে স্লুইস গেট দিয়ে দুটি বাংলাদেশ বানিয়েছে। বাঁধের একপাশে মানুষ কৃত্রিম বন্যায় ডুবে যায়, অন্যপাশে সেচ দিয়ে আবাদ করে,পাট জাগ দেয়।

এক সময় বন্যার পর বাংলার প্রকৃতি এক নতুন সজীবতায় ভরে উঠত। আজ তার উপহার নানা প্রকার রোগব্যাধি আর দুর্ভোগ। যাই হোক, যা হাজির তাকেই মেনে নিতে হবে সত্য মনে করে। সেই হিসাবে আজ যারা বন্যার শিকার তাদের যাতে দুর্ভোগ না বাড়ে সেভাবেই প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের কামনা।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert