thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

হজ ফ্লাইট শুরু

২০১৬ আগস্ট ০৫ ১২:৩৭:৩৫

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হজ ফ্লাইটের প্রথম বিমানটি ৪০১ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা করে বিমানের ফ্লাইট বিজি-১০১১। বিমানবন্দরে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান।

হজযাত্রীদের পৌঁছে দিতে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট চলবে। ফিরতি ফ্লাইট ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বা হিজরী ৯ জিলহজ হজ শুরু হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার ৯১ হাজার ৭৫৮ জন ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার মানুষ হজে যাবেন। ১ লাখ ২ হাজার ৬৪ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরবে নিয়ে যাবে বিমানের ১১২টি বিশেষ ফ্লাইট ও ৩২টি নির্ধারিত ফ্লাইট। ফিরতি যাত্রীদের জন্য থাকবে ১০৫টি বিশেষ ফ্লাইট ও ২৯টি নির্ধারিত ফ্লাইট।

দুই মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবারের হজ যাত্রা শুভ হবে। আমরাও মন্ত্রীদের আশাবাদের সাথে একমত হতে চাই।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মুসলমানরা থাকুক না কেন যাদের উপর হজ ফরজ তারা চেষ্টা করে জীবনে একবারের জন্য পবিত্র হজ পালন করতে। কিন্তু বাস্তবতার কারণে এবং হজযাত্রীর চাপ কমাতে হজ পালনে মানুষের সুবিধার জন্য সৌদি আরব সরকার বেশ কিছু নিয়মকানুন বেঁধে দিয়েছে। সে কারণে প্রতিবছর প্রায় সম সংখ্যক মানুষই মক্কা নগরীতে হজ পালনের জন্য হাজির হতে পারেন। সেই হিসাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ লাখের উপর মুসলমান হাজির হন মক্কায়। হজ পালন শেষে এদের প্রায় সকলেই যান মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান মদিনায়, ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ(সঃ)এর রওজা মোবারক জিয়ারত করার জন্য। এরপর বাড়ি ফেরার পালা। হজ শুরুর আগে এবং পরে তাই এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলে সৌদি আরব তথা মুসলিম দুনিয়ায়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও হজব্রতের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। একটি বড় অংশের মানুষ এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। আমাদের দেশেও সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জড়িত থাকে এই কর্মকাণ্ডে। তাদের কারো থাকে সরকারি দায়িত্ব, কারো থাকে অর্থনৈতিক স্বার্থ। প্রায় প্রতিবছরই হজের এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনৈতিকতার অভিযোগ উঠে থাকে। টাকা জমা দিয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেকে। আবার হজব্রত পালনের সময় হাজিদের যে ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা থাকে সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রায়ই তার ব্যত্যয় ঘটার অভিযোগ পাওয়া যায়। এবারও গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল হজের সুযোগ করে দিতে ঘুষ নেয়া হচ্ছে হজে যেতে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে।

প্রথম হজ ফ্লাইট শুরুর সময় দু’জন মন্ত্রী যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন হাজিরা নির্বিঘ্নে হজ পালন করে দেশে ফিরে আসবেন সেহেতু আমরাও আশা করব এবারের হজ মৌসুমে আগের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert