thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

শোকের ও শপথের ১৫ আগস্ট

২০১৬ আগস্ট ১৫ ০০:০৫:৪৩

বাঙালি জাতির শোকের দিন আজ। ৪০ বছর আগে এইদিনে রাতের অন্ধকারে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। সেদিনের সেই বেদনার্ত স্মৃতিকে ধারণ করে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতি দিনটি পালন করে। আজ জাতীয় শোক দিবস।

ইতিহাসের সত্য সাময়িকভাবে ঢেকে রাখা গেলেও দীর্ঘদিন ঢেকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেও তেমনি ঘটেছিল। তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর খুনিরা তার কীর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু যে মানুষটির জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন রাষ্ট্রটির জন্ম হতো না সেই মানুষটির কীর্তিকে কি মুছে ফেলা সম্ভব।

আবার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে মুজিবের জন্ম হয়েছে সে মুজিব আরো বেশি মহীয়ান, আরো বেশি পরাক্রমশালী। ইতিহাসে অনেক দেশ, অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে, কিন্তু সেই দেশের, সেই সভ্যতার কীর্তিমান পুরুষরা অমর হয়ে থাকে। যারা মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন তারা ইতিহাসে আজও জীবন্ত হয়ে আছেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ইতিহাসের সেই ক্ষণজন্মা পুরুষ।

ইতিহাসের পাতায় এটাও বিরল ঘটনা যে, নায়কের অনুপস্থিতিতে একটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেই ঘটনাটিই ঘটে ১৯৭১ সালে। এটাই সত্য যে পাকিস্তানি কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামেই আমাদের ৯ মাসের স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির গঠন, এর ঐক্য এবং সংহতির জন্যও তারই দায়িত্ব পড়ে। একদিকে যুদ্ধে পরাজিত জাতীয় আন্তর্জাতিক শক্তির ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে যুদ্ধে অংশ নেওয়া নানা স্রোতধারার সশস্ত্র তৎপরতা তাকেই মোকাবেলা করতে হয়। সবকিছুকে পিছনে ঠেলে বঙ্গবন্ধু যখন এগিয়ে যাচ্ছেন তখনই আসে চূড়ান্ত আঘাত। তখনই ঘটানো হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনাটি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের শিশু-নারীসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারকে সমূলে হত্যা করে এদেশেরই কিছু সেনাসদস্য। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে উল্লাস করতে থাকে। ইতিহাস পাল্টে দিতে চায়। কিন্তু ইতিহাসের অনিবার্যতায় আজ সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধু সমহিমায় সমুজ্জ্বল। শোকের ১৫ই আগস্ট তাই শক্তিরও। ১৫ই আগস্ট তাই শপথেরও।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert