thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

ফারাক্কা ইস্যু : আশান্বিত হবার কিছু নেই

২০১৬ আগস্ট ২৬ ২৩:২৪:৪৪

প্রায় প্রতিবছরই ভারতের বিহার প্রদেশ বন্যাকবলিত হচ্ছে। এ বছর এখনও বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার। এই বন্যার জন্য তিনি দায়ী করেছেন ফারাক্কা বাঁধকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে প্রথমে বার্তায় ও পরে সরাসরি দেখা করে তিনি ফারাক্কা বাঁধটিকে পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য- এই বাঁধ তোলা ছাড়া বিহারের বন্যা থেকে মুক্তির কোন পথ নেই। প্রধানমন্ত্রী তার আর্জি আমলে নিয়ে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার তার আর্জিতে বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে উজানে বিহারের বক্সার পর্যন্ত গঙ্গা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে যখন হিমালয় থেকে বাড়তি পানি নেমে আসে বর্তমান গঙ্গা তা আর ধারণ করতে পারে না। স্বাভাবিক ভাবেই তা গঙ্গার পাড় উপচে বিহারের সমতল ভূমিকে প্লাবিত করে। ফারাক্কা বাঁধ পুরোপুরি সরিয়ে ফেললেই এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে।

বাঁধটি যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে এবং এর সাথে কোলকাতা বন্দরের কথিত নাব্যতার সম্পর্ক রয়েছে সে কারণে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কি মতামত দেয় সেটাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র কাছে বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও যদি ফারাক্কা বাঁধ তুলে দেয়ার আর্জি জানান নরেন্দ্র মোদি তা কার্যকর করবেন এমন আশা করার কোন কারণ নেই। বড়জোর নতুন করে বিষয়টি আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।

আমরা যতটুকু বুঝি, দিল্লী সরকারের ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ যতটা না ছিল পশ্চিমবঙ্গের বা কোলকাতা বন্দরের স্বার্থে তার চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এটি নির্মাণ করে আর কিছু না হোক পশ্চিমবঙ্গবাসী আর বাংলাদেশবাসীর মধ্যে এক স্থায়ী মনস্তাত্মিক বিরোধ তৈরি করতে পেরেছে দিল্লী। এই বাঁধ তুলে দিলে দিল্লীর সেই রাজনৈতিক বিভাজন নীতির কি হবে সেটা হবে প্রধান বিবেচ্য। এর জন্য নিজের দেশের একটি অংশের ক্ষতি হলেও কিছু আসে যায় না। তাই নিতীশের এই আর্জি দেখে বাংলাদেশিদের পুলকিত হবার বা আশান্বিত হবার কোন কারণ আছে বলে এখনই বলা যাচ্ছে না।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert


রে