thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

বিশ্ব পর্যটন দিবস মঙ্গলবার

২০১৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৪০:৫০
বিশ্ব পর্যটন দিবস মঙ্গলবার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৭ সেপ্টেম্বর `বিশ্ব পর্যটন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেই হিসেবে মঙ্গলবার বাংলাদেশেও পালিত হবে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৬’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সকলের জন্য পর্যটন : সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা’।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। খবর বাসসের।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘পর্যটনের মাধ্যমে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচিত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকশিত হয়। সর্বসাধারণের নিকট স্বল্পমূল্যে পর্যটন সেবা পৌঁছে দিতে অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি ভ্রমণ ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয় হ্রাসের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৬’ বাংলাদেশে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ বছরের প্রতিপাদ্য, সকলের জন্য পর্যটন: সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা, অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। এবারের প্রতিপাদ্যে পর্যটন কর্মকাণ্ডে নারী, পুরুষ, বয়স্ক, যুবা, শিশু, সচ্ছল, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ একে অপরকে জানতে চেষ্টা করে। পৃথিবীর রং, রূপ, সৌন্দর্য উপভোগ করে।’

পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অফুরন্ত পর্যটন আকর্ষণসমূহকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সচ্ছল, অসচ্ছল, বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী সকলের ভ্রমণ সহজসাধ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তরুণ ও যুবাদের জন্য স্বল্প খরচে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারধর্মী সেবা ও নিরাপদ ভ্রমণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পর্যটনের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের ভূমিকা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সকলের জন্য পর্যটন বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে পর্যটন শিল্পে সকলের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হবে বলে আমি মনে করি।’

রাষ্ট্রপতি এই কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পর্যটনপিপাসু সকলকে আহ্বান জানান এবং ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৬’-এর সফলতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে দেশি-বিদেশি সকল শ্রেণির মানুষকে স্বল্প খরচে বাংলাদেশ ভ্রমণে এবং অন্যান্য পর্যটন সুবিধাদি প্রদানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দেশের পর্যটনকে দেশি-বিদেশি নারী, পুরুষ, বয়স্ক, যুবা, শারীরিকভাবে অক্ষম ও আর্থিকভাবে অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল অর্থাৎ সকল শ্রেণির মানুষের নিকট তুলে ধরতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বল্প খরচে ভ্রমণ, আবাসন ও বিনোদনসহ বিভিন্ন পর্যটন সুবিধাদি সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে পৌঁছে দিতে সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘পর্যটনশিল্পের বিকাশের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের সামনে আমরা স্থানীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য তুলে ধরতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সরকার ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে পর্যটনশিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে পর্যটন কর্পোরেশন গঠন করেন। তিনিই উপলব্ধি করেছিলেন বাংলাদেশ পর্যটনের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় একটি দেশ।’

বিশ্ব পর্যটন দিবসের সফলতা কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হব।’

বাণীতে তিনি পর্যটন কর্মকাণ্ড সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০১৬’ পালনে আনন্দ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, পর্যটন সক্ষমতা-সংক্রান্ত ২০১৩ সালের আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩। ২০১২ সালে ১৪৪টি দেশের মধ্যে ১১৮ এবং ২০১১ সালে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৯। এই তালিকার শীর্ষে আছে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ। এশিয়ার সিঙ্গাপুর, জাপানও আছে এই তালিকায়।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ পর্যটন সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রের সেতুবন্ধ গড়ে তোলা। এ ছাড়া, পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের লক্ষ্য।

১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) বার্ষিক সম্মেলনে এর নাম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। তখন থেকে এর নাম ‘বিশ্ব পর্যটন সংস্থা’ করার বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন নামে ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। ১৯৮০ সালের বার্ষিক সম্মেলনে এই সংস্থা গঠন হওয়ার দিবসে অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পর্যটন দিবস পালনের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

(দ্য রিপোর্ট/এস/জেডটি/এম/সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে