thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন নিন

২০১৬ নভেম্বর ১৩ ২২:৫৮:৪৩
ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন নিন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার ঘরে ঘরে আজ ডায়াবেটিস৷ হতাশার কারণ নেই, কেননা আছে ইনসুলিন নামের একটি পদার্থ৷ নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশন নিলে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায় সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেন৷

মানুষ না খেয়ে বাঁচতে পারে না৷ অথচ কিছু কিছু মানুষের শরীর শর্করা ‘হজম’ করতে পারে না৷ তাদের যে রোগ, তার নাম ডায়াবেটিস, বাংলায় যাকে বলে বহুমূত্র৷ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিবার খাবার আগে একটি হরমোন ইনজেকশন নিতে হয়, যার নাম ইনসুলিন৷ ইনসুলিন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে ডায়াবেটিস ছিল একটি মারাত্মক রোগ৷ মানুষ ডায়াবেটিসের লক্ষণ চেনে হাজার হাজার বছর ধরে৷ অতীতে কম বয়সীরাই এ রোগে আক্রান্ত হতো৷ লক্ষণ ছিল তেষ্টা আর পেট-জ্বলে-যাওয়া ক্ষুধা৷ পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও রোগীরা অপুষ্টিতে মারা যেত৷

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে কুকুরদের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের যে পদার্থটির অভাব, সেটির উৎস হলো পাকস্থলীর কাছে পরিপাক রস নিঃসরণকারী গ্ল্যান্ড প্যানক্রিয়াস৷ প্যানক্রিয়াস নিঃসৃত নির্যাস দিয়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করার প্রচেষ্টা চলে৷ কিন্তু সেই নির্যাস বার করার সময় প্যানক্রিয়াসের পরিপাক এনজাইমগুলো বাকি সব পদার্থ বিনষ্ট করে ফেলে৷ চূড়ান্ত সমাধানটি দেন ক্যানাডার দুই চিকিৎসাবিদ-ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং এবং চার্লস বেস্ট৷ তারা ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ১৯২০ সালে৷

ইনসুলিনের কল্যাণেই দেহের কোষগুলো খাদ্য থেকে রক্তে যে শর্করার অণুগুলো ঢোকে, তা শুষে নিতে পারে৷ শর্করার অণু থেকে শরীরের যাবতীয় প্রক্রিয়া তাদের জ্বালানি পায়৷ ইনসুলিন না থাকলে দেহের কোষগুলো বাস্তবিক না খেয়ে মরে–তা রোগী যতই খাদ্য গ্রহণ করুক না কেন৷ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যাপক হানি ঘটে৷ ব্যান্টিং ও বেস্ট মৃত পশুর প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করেছিলেন৷ সেই ইনসুলিন দিয়ে তারা প্রথমে পশুর ও পরে মানুষের শরীরে সফলভাবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করেন৷ মৃত পশুর প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন বার করা ছিল যেমন কঠিন তেমনই ব্যয়সাপেক্ষ৷

ইনসুলিন

গত শতাব্দীর আশির দশকের আগে সস্তায় ইনসুলিন উৎপাদনের কোনো প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়নি৷ সেই সময় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুতে মানুষের ইনসুলিন জিনটি ঢুকিয়ে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়৷ কাজেই ইনসুলিনই প্রথম ওষুধ, যা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছে৷ ইনসুলিনের কল্যাণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা আজ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন৷

অথচ সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে৷ এর কারণ হলো বেশি খাওয়া ও কম দৌড়ঝাঁপ বা হাঁটাচলা করা৷ যার ফলে ডায়াবেটিস আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গী হয়ে উঠেছে৷ সারা বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন৷ তবে খাওয়াদাওয়া ঠিক রাখলে আর নিয়মিত ব্যায়াম করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব৷

(দ্য রিপোর্ট/এফএস/এম/নভেম্বর ১৪, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর