thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ জুলাই ২০১৭, ৭ শ্রাবণ ১৪২৪,  ২৭ শাওয়াল ১৪৩৮

খাগড়াছড়িতে নেই পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শঙ্কা

২০১৭ জানুয়ারি ০৪ ২২:১১:১৮
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শঙ্কা

এইচএম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে স্ব স্ব মাতৃভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও খাগড়াছড়িতে পৌঁছেনি স্ব স্ব মাতৃভাষার পাঠ্যপুস্তক। জাতিভিত্তিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করা ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় খোদ উদ্যোক্তারাই চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা করছেন চলতি বছরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু নিয়ে।

ঝরে পড়া রোধ, পাহাড় আর সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষালাভের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও এনসিটিবি ২০১২ সালে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুরু করে। প্রথমত, জনসংখ্যা বিবেচনায় চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল, ত্রিপুরা ও সাদরির জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কথা ছিল পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে এ কার্যক্রম চালু হবে। অবশেষে ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও গারো সম্প্রদায়ের স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিলেও এখনও পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ হয়নি খাগড়াছড়িতে।

পাহাড় ও সমতলের ভিন্ন ভাষাভাষী ৪৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি। সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজেদের ভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিশু ঝরে পড়ছে বিদ্যালয় থেকে। আবার অনেক শিশু ভাষা ভীতির কারণে অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য ২৬ হাজার ৫০০ পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের চাহিদা দেওয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে। কিন্তু নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়নি। স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রমে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও গারো সম্প্রদায়ের খাতা ও শিক্ষক নির্দেশিকা সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র। যার মধ্যে রয়েছে চাকমা সম্প্রদায়ের ৩৮৩৩টি, মারমা সম্প্রদায়ের ১৯৭০টি, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১৬২২টি ও গারো সম্প্রদায়ের ৯টি খাতা এবং তার বিপরীতে চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য ১২০০টি শিক্ষক নির্দেশিকা এসেছে।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মহালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমি ত্রিপুরা জানান, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে স্ব স্ব মাতৃভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছেলে মেয়েদের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কোন পাঠ্যপুস্তক এখনও বিদ্যালয়ে আসেনি। তাছাড়া শিক্ষকরা প্রশিক্ষণও পায়নি।

ঠাকুরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যপ্রকাশ ত্রিপুরা জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও পাঠ্যপুস্তক না আসায় ও প্রশিক্ষণ না থাকায় শিক্ষকরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত আখ্যায়িত করে ত্রিপুরা ভাষার লেখক প্যানেলের সদস্য (এনসিটিবি) মথুরাবিকাশ ত্রিপুরা বলেন, স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে ২০১২ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায়ের ৬ জন করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট লেখক প্যানেল গঠন করে। টানা প্রায় পাঁচ বছর প্রচেষ্টায় ২০১৭ সাল থেকে চালু করার কথা থাকলেও যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ না হওয়া, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে স্ব স্ব মাতৃভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা পাঠানো হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। পাঠ্যপুস্তক এসে পৌঁছলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রমে মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পার্বত্য তিন জেলাসহ সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাচিত্র আমূল বদলে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন প্রয়োজন দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে এ কার্যক্রম চালু করা।

(দ্য রিপোর্ট/এপি/এনআই/জানুয়ারি ০৪, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে