thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩,  0 জুলাই ১৪৩৮

শেয়ার কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সালমান এফ রহমান!

২০১৭ জানুয়ারি ০৯ ২১:১৬:২৯
শেয়ার কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সালমান এফ রহমান!

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির দুই মামলা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন অভিযুক্ত বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এ সংক্রান্ত একটি অনুলিপি গত ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে পুঁজিবাজার-বিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এসেছে।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে সালমান এফ রহমানের দুটি মামলা ২০১৫ সালে শেয়ারবাজার-বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। যে দুটি মামলার যাবতীয় কার্যক্রম (কোয়াশড) বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ-আদালত। যার একটি অনুলিপি শেয়ারবাজার-বিষয়ক ট্রাইব্যুনালেও এসেছে। এর পরিপেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, উচ্চ আদালত সালমান এফ রহমানের দুই মামলায় কার্যক্রম বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। যার ফলে এ মামলা ট্রাইব্যুনালের পরিচালনা করার এখতিয়ার নেই। ফলে ট্রাইব্যুনালেও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আপিল বিভাগে আবেদন করলে এ মামলা চালু হতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনা খুবই কম।

১৯৯৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে কারসাজির মাধ্যমে অস্বাভাবিক হারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে দর বেড়ে যায়। পরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারান। ওই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে শাইনপুকুর হোল্ডিংস ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সালমান এফ রহমানসহ কয়েকজনের যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে তৎকালীন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

১৯৯৭ সালে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তৎকালীন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম এ রশিদ খান বাদী হয়ে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এ দুটি মামলা দায়ের করেন। ওই সময়ে মামলা দুটির নম্বর ছিল—১০৭৬/১৯৯৭ ও ১০৮০/১৯৯৭। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালে তা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময়ে নতুন করে মামলা নম্বর দেওয়া হয়। মামলা দুটির নম্বর হয়—৫৫৯/১৯৯৯ ও ৫৬১/১৯৯৯। এরপর পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চালু হলে দায়রা আদালত থেকে তা ফের স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আবার মামলা দুটির নতুন নম্বর দেওয়া হয়—৬/২০১৫ ও ১১/২০১৫।

৬ নম্বর মামলার আসামি হলেন—শাইনপুকুর হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান।

আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত কোম্পানি ও আসামিরা ১৯৯৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে শেয়ার জালিয়াতি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত কমিটির তদন্তে শনাক্ত হয়।’

বিএসইসির তদন্তে জানা যায়, শাইনপুকুরের ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে কোম্পানির শেয়ার দর ব্যাপকহারে বেড়ে যায়।

এদিকে ১১ নম্বর মামলার আসামিরা হলেন—বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডি এইচ খান।

আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত কোম্পানি ও আসামিরা ১৯৯৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে জালিয়াতি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্ত কমিটির তদন্তে শনাক্ত হয়।’

(দ্য রিপোর্ট/আরএ/এম/জানুয়ারি ৯, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে