thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২৪ মে ২০১৭, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪,  ২৭ শাবান ১৪৩৮
কাওসার আজম

মালয়েশিয়া থেকে

রিঙ্গিতের দাম কমায় বিপাকে মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

২০১৭ জানুয়ারি ১১ ২২:৩৩:২০
রিঙ্গিতের দাম কমায় বিপাকে মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও বাড়িতে চাহিদা মতো টাকা পাঠাতে পারছেন না মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নির্ধারিত ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত খাটা-খাটুনি করেও বাড়িতে টাকা পাঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। মালয়েশিয়ান মুদ্রা রিঙ্গিতের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় এমন বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীদের অধিকাংশই বেতন পান ১৫শ’ রিঙ্গিত থেকে দুই হাজার রিঙ্গিত। অনেক ক্ষেত্রে এ বেতন পেতে তাদের ওভার ডিউটিও করতে হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বৈধ-অবৈধ মিলে ১০ লক্ষাধিক প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। মালয়েশিয়ান মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন যেমন প্রবাসীরা পরিবারকে টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, অন্যদিকে রেমিটেন্সেও ভাটা পড়ছে।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) মালয়েশিয়া রিঙ্গিতের বিপরীতে টাকার মান ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে টাকার বিপরীতে রিঙ্গিতের সর্বনিম্ন মান। মাত্র ৬ মাস আগেও রিঙ্গিতের মূল্য ছিল ২২-২৩ টাকা। যে প্রবাসী কর্মী প্রতি মাসে বাংলাদেশি টাকায় ৩২-৩৩ হাজার টাকায় বেতন পেতেন, বর্তমানে একই বেতনে তিনি পাচ্ছেন ২৪-২৫ হাজার টাকা। গত প্রায় এক বছরে অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিকেরই বেতন বাড়েনি। কারো কারো বাড়লেও তা সীমিত। তবে প্রতি রিঙ্গিতের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৫-৬ টাকা। রিঙ্গিতের বিপরীতে টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন প্রবাসী আয় কমেছে, তেমনি বৈধ চ্যানেলের পরিবর্তে অবৈধপথে (হুন্ডি) অর্থ পাঠানোর পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

মালয়েশিয়ার লঙ্কাউইয়ের কোয়ার হাজী ইসমাইল এলাকায় রেস্টুরেন্টে কাজ করেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকার জুলহাস (২৯) ও জসিম (১৯) নামে দুই ভাই। জুলহাস ১০ বছর ধরে এবং তার ছোট ভাই জসিম বছর খানেক হলো ওই এলাকায় রেস্টুরেন্টে চাকরি করেন।

জুলহাস জানান, আগে ৪ হাজার রিঙ্গিত বাড়িতে পাঠালেই বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এক লাখ হয়ে যেত। এখন দুই ভাই মিলে বেতন একই পরিমাণ পাই। এর বাইরে ওভার টাইম করেও এক লাখ টাকা হয় না।

মালয়েশিয়ার কেলাংয়ের কাপার বাতু লিমার মিনহু ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন কয়েকশ’ বাংলাদেশি। সেখানে গিয়ে কথা হয় আছির উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, রফিকুলসহ কমপক্ষে ১০ জন প্রবাসীর সঙ্গে। এদের অধিকাংশই ২০০৭ ও ২০০৮ সালের দিকে, আবার কেউ নতুন এসেছেন মালয়েশিয়ায়। নতুন যারা মালয়েশিয়ায় এসেছেন তারা বলছেন, জমিজমা বিক্রি করে বা মানুষের কাছে ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় এসে তাদের আর পোষায় না। ৩-৪ লাখ টাকা খরচ করে এসে ওভার ডিউটিসহ সর্বসাকল্যে মাসে বেতন পাচ্ছেন ১৩শ’-১৫শ’ রিঙ্গিত। যা বাংলাদেশি টাকায় ২৩ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা। মাস শেষে এ টাকা দিয়ে নিজের খরচ বাদে বাড়িতে আর পাঠানোর তেমন কিছুই থাকে না। পুরাতনদেরও একই বক্তব্য।

মালয়েশিয়ার নিলাই এলাকায় রিক্রন নামের একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করেন মুন্সীগঞ্জের শাহীন, বাগেরহাটের মনিরুজ্জামান ও কিশোরগঞ্জের আবু সাদেক। তারা জানান, ২০০৭ সালে কলিং ভিসায় তারা মালয়েশিয়ায় এসেছেন। শুরুতে ৯শ’ রিঙ্গিত বেতন পেয়েছেন। ওভার টাইমসহ তখন বেতন পেতেন বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে বেতন বেড়ে ১৭শ’ রিঙ্গিত হয়েছে। বেতন বাড়ার পরও রিঙ্গিতের দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সমান বেতনই পাচ্ছেন তারা।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত নতুন ও পুরাতন প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন। বিশেষ করে ৩-৪ লাখ টাকা খরচ করে যারা ভাগ্যবদলের আশায় মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন তাদের ঋণের টাকা শোধ ও সংসারের কথা চিন্তা করে দুর্বিষহ দিন কাটছে। আর যারা পুরাতন রয়েছেন তাদের কেউ কেউ দেশে ফিরে গেছেন, অনেকে আবার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/জেডটি/এনআই/জানুয়ারি ১১, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে