thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪,  ১ আগস্ট ১৪৩৮

মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ শনিবার

২০১৭ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১৮:৪২:০৭
মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষ শনিবার

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : মাংস ব্যবসায়ীদের চলমান ছয়দিনের ধর্মঘট শনিবার শেষ হবে। এরপর আপাতত আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এসব কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের ছয়দিনের ধর্মঘট শনিবার পূর্ণ হবে। তারপর আমরা স্থগিত করলাম। রবিবার সকাল ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রী আমাদের ডেকেছেন। আমরা সেখানে কথা বলব। রবিবার বেলা ২টার সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আমাদের ডেকেছে। রবিবারের পর যদি ফলপ্রসূ কোনো আলোচনা না হয়, তাহলে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। আবার কবে থেকে সারা বাংলাদেশে মাংসের ব্যবসা বন্ধ করে দেব।’

চার দফা দাবিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মাংস বিক্রেতাদের ছয় দিনের এই ধর্মঘট শুরু হয়। তাদের ধর্মঘটের কারণে ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারের মাংসের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। এই আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ৬০০ দরখাস্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে জমা আছে, একটি দরখাস্তও বিবেচনা করা হয় নাই। আমাদের দাবি গাবতলীর গরুরহাটের ইজারা বাতিল করতে হবে। হুন্ডি ব্যবসায়ী কাইলা মইজাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতিবাজ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে বৈধ পথে পশু আমদানীর ব্যবস্থা করতে হবে। আর ভারতে আমরা যখন বৈধ পথে টাকা নিয়ে যেতে পারি পশু আনার জন্য তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

ব্যবসায়ীদের দাবি মানা হলে তিনশ’ টাকা কেজিতে গরুর মাংস খাওয়ানো যাবে বলেও দাবি করেন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সব দাবি পুরোপুরি মানলে মাংসের কেজি ৪০০ টাকার নিচে নেমে আসবে বলে আমি আশা করি। আর কয়েকটি দেশ থেকে ঠিকঠাক মত বৈধ পথে গরু আমদানি করা গেলে আমরা ৩০০ টাকাতেই নগরবাসীকে মাংস খাওয়াতে পারব।’

ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি আর দুর্নীতিকে মাংসের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘ভারতীয় বর্ডার পাস করতে ১৫-২০ হাজার টাকা লাগে। সীমান্ত থেকে গাবতলী পৌঁছতে একটি গরুতে ব্যয় হয় ২০-৩০ হাজার টাকা। দেশে ইজারাদার, চামড়া ব্যবসায়ী, হুন্ডি ব্যবসায়ী, ঢাকা উত্তর সিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে আজ ৫০০ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি করতে হচ্ছে।’

চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেরও মাংস ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গরুর যে চামড়া আমরা এক সময় ৪০০০-৫০০০ টাকায় বিক্রি করতাম, সেই চামড়া এখন ২০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। ছাগলের যে চামড়া আমরা এক সময় ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করতাম, তা এখন ২০-৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক মাংস ব্যবসায়ী রাগ করে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন, এতে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। কুচক্রীমহল আমাদের পকেট কেটে টাকা নিচ্ছে। এ কারণে পশুর গলাকাটার পাশাপাশি আমাদেরও কাস্টমারদের গলা কেটে টাকা নিতে হচ্ছে।’

বিভিন্ন কারণে মাংসের অতিরিক্ত দাম নিতে হয়। আর এতে বিভিন্ন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে ঢাকা সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই সারাদিন ঘোরে, মোবাইল কোর্ট জরিমানা করে। জবাইখানা নাই, আমাদের পশু জবাই করার স্থান নাই, ম্যাজিস্ট্রেট আইয়া কয়- জবাইখানার সিল মারো নাই কেন? কোন যন্ত্রণায় যে আছি, চোখে শর্ষে ফুল দেখছি।’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ মো. আবদুল বারেক, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/কেআই/এপি/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে