thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৪ কার্তিক ১৪২৪,  ২৯ মহররম ১৪৩৯

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির গল্প

৯ মে’র মধ্যে কমিশন গঠনের অগ্রগতি জানাতে হবে

২০১৭ মার্চ ২০ ১৩:২০:০৩
৯ মে’র মধ্যে কমিশন গঠনের অগ্রগতি জানাতে হবে

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনে অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৯ মে’র মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (২০ মার্চ) বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টি এবং ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠনে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, যোগাযোগ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

এছাড়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই তদন্ত কমিটি গঠনে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে প্রতিবেদন আকারে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

সেই নির্ধারিত সময় শেষে সোমবার (২০ মার্চ) মামলাটি কার্যতালিকায় আসলে রাষ্ট্রপক্ষ ৮ সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কমিশন গঠনে অগ্রগতি জানাতে আগামী ৯ মে দিন নির্ধারণ করেন।

‘ইউনূসের বিচার দাবি, বিশ্বব্যাংক ও টিআইবি’র ক্ষমা চাওয়ার আহবান’ শিরোনামে ১৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেছিলেন।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার ঘটনা গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে ওই ঘটনা ফলাও করে প্রচার করায় বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়।

সাড়ে তিন বছর আগের ওই ঘটনার পর বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি কিছু ব্যক্তিত্বের দৌড়ঝাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়াকর্ম ও মিডিয়ার অতি উৎসাহ পদ্মা সেতু ইস্যুতে সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়। যা ছিল সরকারের জন্য চরম অবমাননাকর।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পদ্মাসেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার কারণ পর্দার আড়ালে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস কলকাঠি নেড়েছেন-এমনটিই মনে করছে সরকারের বিভিন্ন মহল। কানাডার আদালত পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা খারিজ করে দেয়ার পর সবর হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা দলগুলো।

তারা এখন মনে করছেন, ওই সময় পদ্মা সেতু ইস্যুতে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করায় ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তাছাড়া জার্মানির অর্থে পরিচালিত দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি দলের নেতারা।

তাদের দাবি দেশের যারা পদ্মসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন তাদের সবাইকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যে অধিক অর্থ ব্যয় হচ্ছে সে ক্ষতিপূরণ বিশ্বব্যাংককে দিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করারও দাবি জানান তারা।

(দ্য রিপোর্ট/কেআই/এমকে/মার্চ ২০, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

অপরাধ ও আইন এর সর্বশেষ খবর

অপরাধ ও আইন - এর সব খবর



রে