thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৭ বৈশাখ ১৪২৪,  ২ আগস্ট ১৪৩৮

ইসলামের দৃষ্টিতে উপহাস

২০১৭ এপ্রিল ১৮ ১৪:০৯:৩৭
ইসলামের দৃষ্টিতে উপহাস

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : আল্লাহ তা’য়ালা সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সমগ্র বিশ্বের মানব সমাজের শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এই মানব সমাজের কেউ উঁচু, কেউ নিচু, কেউ কালো, কেউ সাদা, কেউ শিক্ষিত, কেউ অশিক্ষিত, কেউ জ্ঞানী, কেউ মূর্খ, কেউ মানবিক জ্ঞানসম্পন্ন, কারো চরিত্রে এর অভাব। তাই বলে সাদা কালোকে, শিক্ষিত অশিক্ষিতকে অবজ্ঞা বা উপহাস করবে ইসলাম তা সমর্থন করে না।

পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে এর পরিণাম সম্পর্কে কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা হুজরাতের ১১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে— ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের একদল অন্য দলকে যেন উপহাস না করে, কেননা হতে পারে (আল্লাহর কাছে) উপহাসকৃত দল উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম। অনুরূপ কোনো মহিলা যেন অপর মহিলাকে উপহাস না করে, কেননা হতে পারে উপহাসকৃত মহিলা উপহাসকারীর চেয়ে উত্তম।’

হজরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ তকি ওসমানী পবিত্র কোরআনের উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তাসখীর’-এর অর্থ কাউকে অপমান ও তাচ্ছিল্য করা। এমনভাবে কারো দোষ বর্ণনা করা, যাতে মানুষ তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে। এতে ওই ব্যক্তির অন্তরে ব্যথা লাগে। এ ধরনের কাজ অনেক রকম হতে পারে। যেমন— কারো চলাফেরা, ওঠাবসা, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি নিয়ে ব্যঙ্গ করা, কারো শারীরিক গঠন ও আকার-আকৃতি নিয়ে কটূক্তি করা, তার কোনো কথা বা কাজের ব্যাপারে ঠাট্টা করা। চোখ, হাত-পা দ্বারা টীকা-টিপ্পনী করা অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহর হাবিব রাসূলে করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপস্থিতিতে হজরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা) একদিন কোন এক মহিলার অবয়বের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে সঙ্গে সঙ্গে থুথু ফেলতে বলেছিলেন এবং ভবিষ্যতে কারো সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য থেকে সতর্ক করেছিলেন।

কাউকে অবজ্ঞা ও উপহাস করার ঘটনা এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের সুসম্পর্কে ভাঙন সৃষ্টি করে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। এগুলো হলো জাগতিক বিষয়। আখিরাতের জীবনেও এ জন্য কঠিন পরিণাম ভোগ করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়ায় যারা কাউকে উপহাস করে তাদের জন্য আখিরাতে জান্নাতের দরজা খোলা হবে এবং তাদের জান্নাতের দিকে ডাকা হবে। কিন্তু তারা যখন কাছে এসে জান্নাতের দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে উদ্যত হবে তখনই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এভাবে বারবার তাদের ডাকা হবে এবং প্রবেশ করতে গেলেই তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক পর্যায়ে এভাবে করতে করতে সে নিরাশ হয়ে আর জান্নাতের দিকে ফিরে যাবে না। এভাবে দুনিয়ায় তার উপহাসের পরিণামে আখিরাতে তাকে নিয়ে এ ধরনের উপহাস করা হবে।

দুনিয়ার জীবনে এক মানুষের সঙ্গে আরেক মানুষের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে চাইলে এবং আখিরাতের জীবনে কঠিন সাজা থেকে রেহাই পেতে হলে কাউকে অবজ্ঞা ও উপহাস করার অপগুণ থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো মুমিনের কথা ও কাজে অন্য কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

সদাচরণ হলো আল্লাহর এক বান্দার প্রতি অন্য বান্দার হক। আল্লাহ যেহেতু মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা দিয়েছেন, সেহেতু কোনো মানুষকে অবজ্ঞা ও উপহাস করা স্রষ্টাকে অসন্তুষ্ট করার নামান্তর। আমরা প্রতিটি ভাই ও বোন যেন সর্বাবস্থায় এই অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারি।

(দ্য রিপোর্ট/একেএ/এনআই/এপ্রিল ১৮, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ধর্ম এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম - এর সব খবর



রে