thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪,  ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হালাল রুজি

২০১৭ এপ্রিল ২১ ১৫:২৩:৫০
ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হালাল রুজি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। অর্থাৎ রবের হুকুম আহকাম, বিধিনিষেধ মেনে জীবন পরিচালনার জন্য। তাই আমরা প্রভু নির্দেশিত পন্থায় দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায় করি, সেই সঙ্গে রোজা, হজ, জাকাত, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগী করে থাকি।

কেননা দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতের পাথেয় অর্জন এসব ইবাদতেই নিহিত। কিন্তু ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হালাল রুজি উপার্জন। অবৈধ পন্থায় উপার্জন করে যত ইবাদতই করা হোক না কেন, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

হালাল রুজি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “হে মানব জাতি, পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু ত থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পথ থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা বাকারা) হালাল রুজি অন্বেষণ সম্পর্কে কোরআনে বিধৃত হয়েছে-নামাজ শেষে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করবে।(সূরা জুম’আ)

হাদিসে বর্ণিত আছে- একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ করে বলেন, হে মানবজাতি! আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনগণকে তাই আদেশ করেছেন, যা তিনি নবী-রাসূলগণকে আদেশ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ সফর করে ধুলোমলিন চেহারা ও পোশাক নিয়ে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে ইয়া রব, ইয়া রব বলে দোয়া করে। অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক হারাম এবং জীবিকাও হারাম। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?

মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে বলেছেন, হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে খাও এবং নেক আমল করো। নিশ্চয় আমি তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অধিক অবগত। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমের অন্য স্থানে বলেন, তোমরা পবিত্র বস্তু হতে খাও, যা আমি তোমাদের জীবিকাস্বরূপ দান করেছি।

বৈধকে অবৈধের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত ধর্মীয় কর্তব্য। আল্লাহর নিকট ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন আবশ্যক। তাই প্রত্যেকের উচিত উপার্জনের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধিনিষেধ মেনে চলা। আল্লাহ তায়ালা যেমন বান্দাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তেমনি হারাম পন্থায় উপার্জনকারীদের কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে- হারাম খাদ্যে গঠিত শরীর জাহান্নামের ইন্ধন হবে। এ জন্য হারাম ভক্ষণ থেকে বিরত থাকা দরকার। একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে, হারাম ভক্ষণকারীর অন্যান্য কাজও অহিতকর হয়। কেননা খাদ্যের প্রতিক্রিয়া মানুষের কর্মের ওপর পড়ে। তাই হালাল রুজি ও হালাল খাবারের মাধ্যমে আমরা যেন জীবন অতিবাহিত করতে পারি সেজন্য প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার।

আমরা সকলে ‍যেন নশ্বর জগতে প্রভু নির্দেশিত পন্থায় ইবাদত করে পরকালের পাথেয় অর্জন করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তওফিক দান করুন।

(দ্য রিপোর্ট/একেএ/এনআই/এপ্রিল ২১, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ধর্ম এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম - এর সব খবর



রে