thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

আপিল বিভাগের রায় প্রকাশ

সবক্ষেত্রে ‘যাবজ্জীবন’ আমৃত্যু নয়

২০১৭ এপ্রিল ২৪ ২১:৪২:৩১
সবক্ষেত্রে ‘যাবজ্জীবন’ আমৃত্যু নয়

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ‘যাবজ্জীবন’ বলতে আমৃত্যু কারাদণ্ড বুঝাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। যে ক্ষেত্রে খুনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, সেই দণ্ডের ক্ষেত্রে ‘যাবজ্জীবন’ বলতে আমৃত্যু কারাবাসকেই বুঝানো হবে।

তবে যেসব ধারার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সেসব মামলার কারাদণ্ডের মেয়াদ আমৃত্যু নাও হতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

উদাহরণস্বরুপ-বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধজনক নরহত্যা, ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণ ও ৩৭৭ ধারায় অস্বাভাবিক যৌনাচারের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ সব ক্ষেত্রে ‘যাবজ্জীবন’ বলতে ৩০ বছর কারাদণ্ডের বিধান প্রয়োগ হতে পারে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

আপিল বিভাগ একটি খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে যে রায় দিয়েছিলেন, সোমবার (২৪ এপ্রিল) সেই রায়ের ৯২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতেই এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই তিন আসামি হলেন- আতাউর, আনোয়ার ও কামরুল।

২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০০৩ সালে দ্রুত বিচার আদালত উল্লেখিত তিন জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন । পরে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্টেও তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

ওই মামলায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন। তবে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা এ সময় বলেন, ‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) কারাবাস।’

সেই মামলার রায়েই যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু দণ্ড নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, যদি হাইকোর্ট বিভাগ বা এই আদালত (আপিল বিভাগ) মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন এবং নির্দেশ দেন যে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত এই কারাদণ্ড ভোগ করবে, তখন এ ধরনের মামলায় সাজা কমানোর আবেদন গ্রাহ্য হবে না।

অভিমতে আদালত আরও বলেছেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে এটাই বিধান। এ ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডটা হচ্ছে ব্যতিক্রম। যখন এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাউকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তখন এর কারণ অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়।

আদালতের রায়ে ‘যাবজ্জীবন’ বলতে যে আমৃত্যু কারাবাস, সেই ব্যাখ্যাও এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অর্থ ৪৫ ধারার সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। (৫৩ ধারায় শাস্তির ধরনের মধ্যে একটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড উল্লেখ করা হয়েছে। আর ৪৫ ধারায় ‘জীবন’ বলতে ‘মনুষ্য জীবন’কে বুঝানো হয়েছে।) সেক্ষেত্রে দেখা যায় যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

অবশ্য বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় রয়েছে, ‘দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাবাসকে ত্রিশ বছর মেয়াদী কারাবাসের সমতুল্য বলে গণ্য হবে।’

আদালতের রায়ে সেই ৫৭ ধারার বিষয়ে ব্যাখ্যাও এসেছে। রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা সেখানেই প্রযোজ্য হবে, যেখানে সর্বোচ্চ দণ্ড হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিধান যদি করা না হয়, তখন সাজার ভগ্নাংশ গণনা করাটা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, সাজা কমানোর (রেয়াদ প্রদান) ক্ষেত্রে কারবিধি প্রশাসনিক আদেশ হিসেবে বিবেচিত। মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মামলায় কোনো আদালত বিচারের প্রাথমিক পর্যায়ে আসামি যদি দোষ স্বীকার করে, তখন সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল নমনীয় দৃষ্টিতে দেখতে পারে। কিন্তু এ ধরনের মামলায় আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে আসামি জেনে বা বুঝে দোষ স্বীকার করেছে কীনা। আদালত মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দণ্ড দিতে বাধ্য থাকবে না।

এই আদালত (আপিল বিভাগ) বা হাইকোর্ট বিভাগ কোনো সাজা দিলে তা ক্ষমা করা, বাতিল করা বা দণ্ড কমানো বা সাজা কার্যকরে বিলম্ব করতে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি প্রয়োগ করতে পারবেন।

আদালতের এ রায়ের কপি পাওয়ার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপরাপর আসামির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে বলা হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/কেআই/জেডটি/এনআই/এপ্রিল, ২৪, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে