thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪,  ৩ মহররম 1439

‘চিকনগুনিয়া’র প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০১৭ মে ১৭ ১৯:৫৫:২৩
‘চিকনগুনিয়া’র প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ‘চিকনগুনিয়া’ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানালেন, মশাবাহিত এই রোগের প্রাদুর্ভাবের (ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া) কোনো আশঙ্কা নেই।

সচিবালয়ে বুধবার (১৭ মে) চিকনগুনিয়া রোগ বিস্তার রোধে করণীয় সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্বকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এ কথা বলেন।

চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আতঙ্ক না ছড়িয়ে গণসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাগের কোনো আশঙ্কা নাই। সরকার এক্ষেত্রে বরাবরের মতোই প্রস্তুত।’

রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে আরও তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘সবাইকে মনে রাখতে হবে, মশা নিধনই এই রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।’

‘চিকনগুনিয়া মরণঘাতী কোন রোগ নয়’ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ নিয়ে অহেতুক ভীত বা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাধারণত জমে থাকা পানির মধ্যেই চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিশ মশা জন্মায়। জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এই রোগ দুটি (চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু) থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব।’

চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করারও নির্দেশ দেন পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী।

চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাস (আলফা ভাইরাস, গোত্র টোগা ভাইরাস) মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। ১৯৫৩ সালে তানজানিয়ায় চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস এইজিপ্টি মশা চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাসেরও বাহক। অন্যান্য মশার কামড়েও এ রোগের বিস্তার হতে পারে তবে তা সীমিত আকারে। এডিস মশা সাধারণত দিনেরবেলা কামড়ায়।

এ রোগের লক্ষণগুলো হচ্ছে- জ্বর, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, মাংসপেশীতে ব্যথা, হাড়ের জোড়গুলোতে ব্যথা, শরীরে র‌্যাশ, হাড়ের জোড় গুলি ফুলে যাওয়া ও বমি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকনগুনিয়া জ্বর কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী হতে পারে। একবার চিকনগুনিয়া জ্বর হয়ে গেলে সারা জীবনে আর চিকনগুনিয়া জ্বর হয় না। চিকনগুনিয়া জ্বরের চিকিৎসায় কোন এন্টিবায়টিক প্রয়োজন হয় না। চিকনগুনিয়া জ্বরের কোন টিকা নাই। জ্বরের চিকিৎসায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এবং প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। এসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকনগুনিয়ায় মৃত্যুর সম্ভাবনা খুবই কম বা অতি বিরল।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/আরএমএম/এপি/এনআই/মে ১৭, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে