thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

১০ মেগা প্রকল্পের এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিবেদন

পদ্মা সেতুর অগ্রগতি ৪১.৫০ শতাংশ

২০১৭ মে ২৩ ২২:৩৭:৪৮
পদ্মা সেতুর অগ্রগতি ৪১.৫০ শতাংশ

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া মূল সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৩৭ শতাংশ। অন্যান্য অংশের কাজও প্রায় শেষ। সব মিলিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণ কাজ। এ ছাড়া রূপপুর পরামানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা অধিকাংশ মেগা প্রকল্পই এগিয়ে যাচ্ছে বাস্তবায়নের দিকে। চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তৈরি করা ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাস্টট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ‘সরকারের বিশেষ নজরদারির কারণে চলতি মেগা প্রকল্পগুলো সার্বিক অগ্রগতির হার ভাল। ফলে এডিপি বাস্তবায়নে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার যে বেড়েছে সেক্ষেত্রেও মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির একটা ভূমিকা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এসব মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি আরও বেশি হবে। সেভাবেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়-

পদ্মা সেতু : এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ১০০ ভাগ, সার্ভিস এরিয়া-২ এর কাজ ১০০ ভাগ, নদী শাসন কাজ ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির অনুকূলে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আরএডিপি বরাদ্দের ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম এর আগে বলেছিলেন, ‘যেভাবে বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে আমি এখনো আশাবাদী ২০১৮ সালেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। সে জন্যই দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি।’

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র : এ প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় কাজের ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম ও দ্বিতীয় চুক্তির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তৃতীয় চুক্তির কাজ অধিকাংশই শেষ। চতুর্থ চুক্তির কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরএডিপিতে বরাদ্দ ২১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মার্চ পর্যন্ত ব্যয়ের হিসাব পাওয়া গেছে। সে হিসেবে খরচ হয়েছে ১৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

মেট্রোরেল: মেট্রোরেল প্রকল্পটির কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-১ এর জন্য টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই ২,৩, ৪নং প্যাকেজের চুক্তি হয়েছে। ৫ ও ৮ নং চুক্তির টেন্ডারের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরের আএডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র : প্রকল্পটির ওনারস ইঞ্জিনিয়ারস এবং কয়লা পরামর্শক নিয়োগের কাজ ১০০ভাগ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন-১ এর কাজও শতভাগ শেষ হয়েছে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অগ্রগতি ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র : এ প্রকল্পটির ওনারস ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ এবং জমি সংক্রান্ত দায়িত্ব এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ক্লিয়ারেন্স এর কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বাউন্ডারি ফেন্সিং কাজও শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছর আরএডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৪৬৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা টাকা। গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩৫৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আরএডিপি বরাদ্দের ৭৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ : প্রকল্পটি বিল্ড ওন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত বছরের ১৮ জুলাই টার্মিনাল ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানির জন্য এখনো কাতারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া জিও টেকনিক্যাল সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে বিসন টেস্টের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডিজাইনের কাজ চলছে।

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর : এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখনো অর্থায়ন কোন উৎস থেকে হবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলেই ণির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর : এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ্র আওতায় জমি অধিগ্রহণ, ওয়ার হাউজ নির্মাণ, সার্ভে বোর্ট,পাইট ভেসেল ইত্যাদি ক্রয় করা হবে। চলতি অর্থবছরে আরএডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ২০০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩২ শতাংশ।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ : প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ১০২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা আরএডিপি বরাদ্দের ১৪ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি বলা হয়েছে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ : এ প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গত মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা বর্তমান অর্থবছরের আরএডিপি বরাদ্দের ৫৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

(দ্য রিপোর্ট/জেজে/জেডটি/মে ২৩, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর