thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭, ১২ শ্রাবণ ১৪২৪,  ৩ ধূ-আল-কাইদাহ ১৪৩৮

সাইবার হামলা মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ : পলক

২০১৭ জুলাই ১০ ২০:৪৪:৩১
সাইবার হামলা মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ : পলক

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আমরা বেশকিছু সাইবার হামলার শিকার হয়েছি। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের অনেক উন্নত আধুনিক এবং যারা এই সাইবার জগতে নেতৃত্ব দেয় সেইসব দেশও মারাত্মকভাবে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এই মুহূর্তে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশের জন্য সাইবার হামলা মোকাবেলা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মিলন (কুমিল্লা-৮) এ নোটিশটি সংসদে উপস্থাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে হলে এখন আর কোনো সশস্ত্র হামলা চালানোর প্রয়োজন নেই। সাইবার হামলা চালিয়েই যেকোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের ক্ষতি করা সম্ভব। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশনটি যখন প্রধানমন্ত্রী প্রদান করেন তারপর থেকেই বাংলাদেশে ডিজিটাইজেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আমরা আস্তে আস্তে যত বেশি আমাদের ডিজিটাইজেশন হয় ততবেশি সাইবার ঝুঁকিতেও আমাদের পড়তে হয়। ইতোমধ্যে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ আমরা সাইবার ঝুঁকি নিরসনে সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করেছি। একই বছরের ২৪ মার্চ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য নিরাপত্তা পলিসি গাইডলাইন আমরা করেছি।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০১৫ সালের অগাস্টে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ নীতিমালা-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একটি ম্যানুয়াল গভর্মেন্ট অব বাংলাদেশ ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানুয়াল প্রস্তুত করা হয়েছে। যেটা আজকে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে আমরা প্রদান করেছি। যেখানে আমাদের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির কার কি করণীয় আছে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং বর্ণনা করা হয়েছে।

সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে ১০৯৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে পলক বলেন, এর বাইরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘটনা ঘটার পর প্রধামন্ত্রীর নির্দেশনাক্রমে আমরা প্রায় ১০টি বৈঠক করেছি। এ বৈঠকগুলোতে বর্তমানে আমাদের কোনো ধরনের আইন, পলিসি, গাইডলাইন দরকার সেগুলো আইডেন্টিফাই করেছি। সেগুলো প্রণয়নের কাজে আমরা হাত দিয়েছি। এবং সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি গঠন, সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠন এবং ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব গঠনের প্রকল্প ইতোমধ্যেই আমরা গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের ২২টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে আমরা চিহ্নিত করেছি। যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সাইবার এন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম আমরা গঠন করেছি। সাইবার সিকিউরিটি ইস্যু শুধুমাত্র জাতীয় ইস্যু নয়, এটি একটি ক্রস বর্ডার ইস্যু। বিভিন্ন ধরনের সাইবার এন্সিডেন্ট রেসপন্স টিমের সাথে আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যে সাইবার হামলা হচ্ছে তার অধিকাংশ দেশের বাইরে থেকে আসছে। তাই আমাদের জাতীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানোর জন্য ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার আমরা প্রতিষ্ঠিত করছি। ইমেইল সার্ভিস ফর গভর্মেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের সরকারের ইমেইল এবং তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করার জন্য ডেটা সেন্টার আমরা নিশ্চিত করছি। পাশাপাশি ক্রস বর্ডার কলাবরেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যে সাইবার যে ক্রিমিনাল আছে তাদের যে আক্রমণ সেগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছি।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/এপি/এনআই/জুলাই ১০, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে