thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

আইপিও অনুমোদন হ্রাস, প্রশ্নবিদ্ধ বিএসইসি

২০১৭ জুলাই ২৩ ২১:৫৮:১৩
আইপিও অনুমোদন হ্রাস, প্রশ্নবিদ্ধ বিএসইসি

দেশের শিল্পায়ন ও শেয়ারবাজার সম্প্রসারণে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও অনুমোদন না বাড়িয়ে বরং ধারাবাহিকভাবে তা কমাচ্ছে।

দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ১৭টি কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে ৮টি বা ৪৭ শতাংশ কমে ৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়। চলতি বছরের অর্ধেকের বেশি পার হয়ে গেলেও মাত্র ৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে।

তালিকাভুক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক নয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় শেয়ারবাজারের মূলধনের পরিমাণ খুবই কম। জিডিপির আকার নিয়মিতভাবে বাড়লেও বাজার মূলধনের পরিমাণ সেভাবে বাড়ছে না। এতে জিডিপির তুলনায় শেয়ারবাজারের মূলধন আরও কমছে। আইপিও অনুমোদন কমে যাওয়া আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ বছরে (২০১০ থেকে ২০১৬) বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বড় হয়েছে। এ সময়ে জিডিপির আকার বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে জিডিপির অনুপাতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে। ২০১০ সালে জিডিপির অনুপাতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫০.৭০ শতাংশ। তবে গত ৬ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে অনুপাত। যা ২০১৬ সাল শেষে দাঁড়িয়েছে ১৯.৭০ শতাংশে। সে হিসাবে ৬ বছরে জিডিপিতে শেয়ারবাজারের অনুপাত কমেছে ৬১ শতাংশ।

জিডিপির অনুপাতে ডিএসইর মূলধন

সাল

অনুপাত (%)

২০১০

৫০.৭০

২০১১

৩৩.২০

২০১২

২৬.৩০

২০১৩

২৫.৫০

২০১৪

২৪.১০

২০১৫

২০.৬০

২০১৬

১৯.৭০


জিডিপির সাথে পাল্লা দিয়ে আইপিও অনুমোদন বাড়ানো প্রয়োজন হলেও তা কমেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রশিক্ষণের নামে বিএসইসির কর্মকর্তারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণে থাকেন। যে কারণে আইপিও অনুমোদন কমে গেছে। এছাড়া আইপিও অনুমোদন দেওয়া নিয়ে তাদের খুব একটা মাথাব্যথা নাই। আইপিও অনুমোদনে ৩ থেকে ৪ বছর সময়ও অতিবাহিত হয়ে যায়।

তারা আরও জানান, আইপিও অনুমোদনের জন্য প্রযোজ্য শর্তের বাহিরেও বিএসইসি অহেতুক অনেক বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে। এতে করে আইপিও অনুমোদনে অনেক জট বেঁধে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বিএসইসির কি লাভ তা বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন পেতে ৩-৪ বছর লাগা আমার কাছে বোধগম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি ভালো বলতে পারবে। এতো বেশি সময় লাগা ঠিক না বলে জানান। তাই এসব বিষয় বিএসইসির দেখা উচিত।

দেশের শেয়ারবাজারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভালো কোম্পানি আনার লক্ষে বিএসইসির উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার জন্য সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়ালি-উল মারুফ মতিন বলেন, আইপিও অনুমোদনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমানো হয়েছে। বিষয়টি খুব খারাপ হয়েছে। অবশ্যই আইপিও অনুমোদন বাড়ানো দরকার। না হলে সাপ্লাই ও ডিমান্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। এতে বাজারে বাবল তৈরী হওয়ার সুযোগের সৃষ্টি হয়। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আইপিও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আমাদের বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। বেশি বেশি আইপিও বাজারের উন্নয়ন ঘটাবে। সেকেন্ডারি মার্কেটের জন্য আইপিও ক্ষতিকারক বলে মনে করি না। বাংলাদেশের মতো অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ যেমন ভারত আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে এনেছে, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। তবে আমার বিশ্বাস, দেশের গভর্ন্যান্স লেভেল উন্নয়নের সাথে সাথে ভবিষ্যতে আইপিও প্রক্রিয়া অনেক সহজতর হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়শনের (ডিবিএ) সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, বাজার সম্প্রসারণে আইপিও অনুমোদনের দরকার আছে। তবে নতুন আইপিও ইস্যু রুলস-২০১৫ এর কারণে গত অর্থবছরে আইপিও অনুমোদনে ধীরগতি এসেছে। যে সমস্যা অনেকটা কেটে গেছে। এখন থেকে নিয়মিতভাবে একের পর এক আইপিও অনুমোদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, সাধারণত কোম্পানিগুলো ইস্যু ম্যানেজারের মাধ্যমে প্রসপ্রেক্টাস জমা দেয় আইপিও অনুমোদন পেতে। কমিশন এই প্রসপ্রেক্টাস যাচাই-বাছাই করে বেশিরভাগ সময় কোম্পানিগুলোর কাছে বিস্তারিত জানতে চায়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আবেদন করা কোম্পানি ও তার ইস্যু ম্যানেজার তথ্য পাঠাতে দেরি করে থাকে। মূলত তাদের তথ্য পাঠানোর দেরির কারণে কিছুটা সময় লেগে যায় আইপিও অনুমোদন পেতে। উল্টো অনেকে অভিযোগের সুরে বলে থাকেন কমিশন আইপিও অনুমোদন দিতে দেরি করে থাকে। কিন্তু সেটি সঠিক নয়। কারণ, ইস্যু ম্যানেজার ও কোম্পানির তথ্য পাঠানোর দেরির কারণেই এমনটি ঘটে থাকে। ইস্যু ম্যানেজাররা তথ্য তাড়াতাড়ি পাঠালে আইপিও অনুমোদন পেতে সময় লাগবে না।

(দ্য রিপোর্ট/আরএ/এমকে/জেডটি/এনআই/জুলাই ২৩, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে