thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪,  ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে দলগুলো

২০১৭ আগস্ট ০৮ ১০:০৬:০৯
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে দলগুলো

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে দলীয় যোগ্য প্রার্থীর খুঁজছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ, একই জোটের শরিক জাতীয় পার্টি ও ২০ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপি থেকে অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

তবে কে কোন দল থেকে মনোনয়ন পাবেন তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এরপরও বিভিন্ন দলের বিভিন্ন প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে-ঘাটে চলছে নানা আলোচনা। এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির মজিবুল হক চুন্নু। দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মিজানুল হককে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি এখন মহাজোট সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী। এ কারণে আসনের দুই উপজেলায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বেশ দাপট রয়েছে। আর দলীয় কোন্দলের কারণে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থীর সংকটে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ আসনে বিএনপির আমলে এমপি ছিলেন ড. ওসমান ফারুক। তিনি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে সংস্কারপন্থি হওয়ায় নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে তিনি মনোনয়ন পাননি। বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে। ওই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল বিএনপি।

এবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে ড. ওসমান ফারুককে নিয়েই বিএনপিতে বেশি আলোচনা হচ্ছে। কেননা সংস্কারপন্থি নেতাদের ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ডের মনোভাব এবার ইতিবাচক। এ ছাড়া হেভিওয়েট নেতা হিসেবে এলাকায় ড. ওসমান ফারুকের ব্যক্তি ইমেজ অন্য নেতাকর্মীদের চেয়েও অনেক বেশি রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়ায় তিনি খানিকটা বেকায়দায় রয়েছেন। এ সংক্রান্ত মামলার বেড়াজালে পড়ে গেলে আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তখন বিএনপির থেকে আবার জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা প্রার্থী হতে পারেন। তবে ড. ওসমান ফারুক প্রার্থী হতে না পারলে এবং আওয়ামী লীগ শক্তিশালী প্রার্থী দিতে না পারলে গত দশম সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারেন জাতীয় পার্টির চুন্নু।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী প্রার্থী না পেলে এবং জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকলে আসনটি জাতীয় পার্টি দাবি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভোটের মূল লড়াই হতে পারে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির। এ ছাড়া মহাজোটের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া জাপা নেতা মুজিবুল হক চুন্নু প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এ আসনের দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে ও মাঠপর্যায়ে জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলছেন অন্য কথা, এবার আওয়ামী লীগের কোন নেতা দল থেকে মনোনয়ন না পেলে আগামীতে এ দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি বলতে কিছুই থাকবে না। এ আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আলহাজ নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু মহাজোট রক্ষার স্বার্থে পরবর্তীকালে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এবারও তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হবেন বলে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীরা জানান।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ড. ওসমান ফারুকের বিকল্প প্রার্থী বিএনপিতে নেই। তার নামে মামলা না হলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়ানোর চেষ্টা বর্তমান সরকারেরই একটি রাজনৈতিক চাল। ওসমান ফারুক অবশ্যই বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন এবং বিজয়ীও হবেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল দ্য রিপোর্টকে বলেন, ড. ওসমান ফারুক চিকিৎসার জন্য বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি অবশ্যই নির্বাচনী মাঠে আসবেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পায়নি সরকার। এগুলো সাজানো অভিযোগ, সরকার এতে কখনোই সফল হবে না। এ আসনের ভোটাররা ড. ওসমান ফারুককেই চান।

করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আলহাজ নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ দ্য রিপোর্টকে বলেন, এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত। সংগ্রামের পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগেই জয়ী হয়ে আসছে। কিন্তু গত দুই নির্বাচনে মহাজোটের কারণে জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি দেওয়া হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতারা হতাশ হয়ে নির্বাচিত এমপি না পেয়ে সাংগঠনিকভাবে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। গত নির্বাচনে মহাজোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। পরে তার নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। এবার আশা করি, আমাকে তিনি মনোনয়ন দেবেন। কারণ জাতীয় পার্টির নেতাকে এ আসন থেকে গত নির্বাচনে মহাজোট মনোনয়ন দেওয়ায় পরে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অষ্টম সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ড. মিজানুল হক। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৬২ হাজার। আর ৬৪ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির ড. ওসমান ফারুক। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু পেয়েছিলেন ৬০ হাজার ভোট।

নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে প্রার্থী ছিলেন জাপার মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি ১ লাখ ৫৮ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। আর বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা পেয়েছিলেন ৫৪ হাজার ভোট।

দশম সংসদ নির্বাচন মহাজোট থেকে প্রার্থী করা হয় মজিবুল হক চুন্নুকে। তিনি ১ লাখ ৩২ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মিজানুল হক পেয়েছিলেন ১৬ হাজার ভোট। মিজানুল হক আওয়ামী লীগের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/এনআই/আগস্ট ০৮, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে