thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৪ আশ্বিন ১৪২৪,  ২৭ জিলহজ ১৪৩৮

ভারী বর্ষণে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

২০১৭ আগস্ট ১২ ২২:৪৩:১০ ২০১৭ আগস্ট ১৩ ১০:০০:০০
ভারী বর্ষণে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের মাঠ।

এদিকে, অব্যহত বর্ষণে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে পঞ্চগড়ের ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়েছে জেলার কয়েক লক্ষ মানুষ। বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দি অসংখ্য পরিবার পাশের স্কুল কলেজ এবং খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। আকষ্মিক এই বন্যার কারনে জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে পৌরসভা এলাকার নিমনগর, ডিষ্টিলারিজ খালপাড়া, পুরানা ক্যাম্প, রামের ডাংগা, পৌর খালপাড়া, রাজনগর খালপাড়াসহ বিভিন্ন মহল্লার তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে দূর্ভোগে পরেছে এসব এলাকার মানুষজন। অনেকে প্রতিবেশি এবং আত্বীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দূর্গতদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি কোন সংস্থা এগিয়ে আসেনি। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা দূর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকেল ৫ টায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল।

এদিকে জেলার পঞ্চগড় সদর, বোদা, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী ও দেবীগঞ্জ উপজেলার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ইউনিয়নের পানিবন্দী হয়েছেন।

এদিকে বোদা উপজেলার ঝলই-শালশিরি ইউনিয়নের উপর পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও রেল লাইনের উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

ঝলই-শালশিরি এলাকার চিড়াকুটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল আলম সাগর বলেন, ‘রাতেই আমার বাড়ির উঠোনে হাটু পানি জমেছে। আমরা গবাদি পশু আর ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। যেদিকেই তাকাচ্ছি শুধু পানি আর পানি। আমার বাড়ির পাশের রেল লাইনের উপর দিয়েও পানি যাচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, তিন দিন ধরে ভারি বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। দূর্গত এলাকায় শুকনো খাবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এছাড়া এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওয়ের নবনির্মিত ব্রডগেজ রেলপথ। রেল লাইনের উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহের কারণে নয়নিবুরুজ স্টেশন থেকে কিসমত স্টেশন পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন জায়গায় স্লিপারের মাঝের পাথর ও মাটি সরে গেছে। এতে সাময়িক ভাবে রেল চলাচল বন্ধ রেখেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে বালির বস্তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ স্থান গুলো সংস্কারের চেষ্টা করছে রেল বিভাগ।

পঞ্চগড় রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার বজলুর রহমান বলেন, অতি বর্ষণ এবং পানির প্রবল স্রোতে কিছু জায়গায় রেলপথ (ওয়াস আউট) ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এজন্য পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকার যাত্রীদের ঠাকুরগাও থেকে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে রাজশাহী থেকে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধ দল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেল পথ পরিদর্শন করেছেন।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট ডিভিশনের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারনে রেল লাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় পাথর ও মাটি সরে গেছে। এখানে পাশেই মহারানী নামের একটি স্লুইচগেট আছে সেটি খোলা না থাকার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন মোটমুটি ভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের সংস্কারের চেষ্টা করছি। তবে পানি নেমে গেলেই পুরোপুরি ভাবে সংস্কার করা হবে এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছে, দিনাজপুরে টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিদ্যালয় মাঠ, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত, খাল-বিল, ডোবা-নালাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণে দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। এতে করে দাম বেড়েছে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ৬০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সুজালপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা। পানিবন্দি পরিবারের লোকজন গবাদি পশুসহ আসবাবপত্র নিয়ে স্থানীয় বলদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং সুজালপুর ইউনিয়নের উত্তর মাকড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ি এলাকার শেখ মো. জাকির হোসেন জানান, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন।

শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. কেএম কুতুব উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনকে জানিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া পরিবারের মাঝে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কোন প্রকার সাহায্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম জানান, অব্যাহত বর্ষণের ফলে বিদ্যালয় মাঠে হাটু পানি জমে গেছে। কয়েকটি ক্লাশরুমে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। ফলে শিক্ষক উপস্থিত হলেও শিক্ষার্থী না আসায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার অটোরিক্সা চালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই। তাই দুই দিন ধরে কিস্তি দিতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে আজ (শনিবার) বৃষ্টিতে বেরিয়ে পড়েছি। আজ কিস্তির জন্য নয়। টাকা রোজগার করে বাজার নিয়ে বাড়ী ফিরতে হবে। তা না হলে দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীবন্দর এলাকার দিন মজুর মোহাম্মদ আলী জানান, দুই দিন ধরে কোন কাজ নেই। তাই আজ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কাজের সন্ধানে রাণীবন্দর বাজারে এসেছি। অপেক্ষা করেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোন কাজের সন্ধান মেলেনি। বোধ হয় আজ আর কাজ মিলবে না। তাই ভাবছি কারো কাছে টাকা ধার করে বাজার করতে হবে। তা না হলে পরিবারের লোকজন না খেয়ে থাকবে।

টানা বর্ষণে আগুন লেগেছে কাচা বাজারে। মরিচ এবং পিয়াজের ঝাজ বেড়েছে আরও একদফা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সজবিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক পণ্যের দাম।

রবিবার বাজারে পিয়াজের দাম প্রতি কেজি ৬৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শনিবার কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৩০টাকা কিন্তু রবিবার তা বেড়ে ১৪০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও আলু ২০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. সাব্বির হোসেন।

তিনি জানান, বৃষ্টির ফলে পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। আবার বাজারে ক্রেতার অভাবে অনেক পণ্য পচে যাওয়ায় অনেকে দোকান বন্ধ রেখেছে। বৃষ্টি থেমে গেলে মালামাল আমাদানি স্বাভাবিক হবে এবং তখন অনেক পণ্যের দাম কমে যাবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, টানা বর্ষণে এলাকার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। পুনর্ভবা নদীর পানি বেড়ে ৩৩.১০ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই নদীর পানি বেড়ে ৩৯.৫ সেন্টিমিটারে পৌঁছেছে। এ সকল নদীর পানি বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যার আংশকা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি জানান, আমরা বৃষ্টিপাতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানিয়েছে, গত চারদিনের প্রবল বর্ষনে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানি বন্দী হয়ে পরেছে হাজার হাজার পরিবার। প্রবল বর্ষণের ফলে উপজেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া এলাকার সকল পুকুর ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এলাকার সকল জায়গায় পানি বাড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পানিবন্দীরা। উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন,ডোমার সদর,জোড়াবাড়ী,বামুনিয়া,গোমনাতি ও ডোমার পৌরসভায় বন্যা দেখা দিয়েছে।গত চারদিন ধরে পানিবন্দী হয়ে পরায় ভোগান্তিতে পরেছে হাজার হাজার মানুষ। গত ২৪ ঘন্টায় ডোমার উপজেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।। উপজেলার বামুনিয়া,গোমনাতি,ভোগডাবুড়ি,জোড়াবাড়ী,বোড়াগাড়ী ও ডোমার পৌরসভার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।পৌরসভার ১,৩,৪, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বেশকিছু পরিবারের ঘড়বাড়ী বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ঘড়বাড়ী তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত প্রানীরাও খেতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পরছে।ডোমার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড ও সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাদ যায়নি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাব্বের হোসেন মানু। তার বাড়ীতেও পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আখতারুজ্জামান সুমন মেয়র আলহাজ্ব মনছুরুল ইসলাম দানুর পরামর্শে প্রভাবশালী কর্তৃক মাটি ভরাট করা ড্রেনটি নিজহাতে পরিস্কার করেছে। ড্রেনটির ভিতর থেকে মাটি বের করে দেওয়ায় পানি চলে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পানি কমে যাচ্ছে। পৌরসভার ৩ নং ওযার্ড ও ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের প্রায় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরেছে। পরিবারের প্রায় সকলের বাড়ীতে পানি প্রবেশকরে এক প্রকার গৃহবন্দী হয়ে পরেছে পরিবারগুলো। প্রায় কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের ঘড়বাড়ী। পানি নিষ্কাশনেরব্যবস্থা ও পানি যাওয়ার রাস্তার ক্যানেল প্রভাবশালী এক নারী নেত্রী বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় প্রতিবছর বন্যার সময় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।

আনোয়ার নামে এক ব্যাক্তি জানান, গত দুইদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে বন্যা কবলিত এলাকায় আসতে অনুরোধ করা হলেও তিনি আসেননি।তিনি বলেন, পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বেশকিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে বের হতে পারছেন না। তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার সকল পুকুর ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মাছ চাষীরা পথে বসেছে। তাদের প্রায় কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে বের হয়ে গেছে । মাছ চাষী রাকিব হাসান মানিক জানান, তাদের তিনটি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে বের হয়ে গেছে। এতে তাদের ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

প্লাবিত হয়ে পড়েছে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও উলিপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কুমরপুর এলাকায় কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক তলিয়ে যাওয়া যেকোন মুহুর্তে জেলা শহরের সাথে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার গ্রামীণ হাট-বাজার গুলো। তলিয়ে গেছে জেলার ৫০ ইউনিয়নের রোপা আমনসহ মৌসুমি ফসল।

বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানুষজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিচ্ছে।

সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কুমরপুর এলাকার নছিয়ত আলী (৭০) জানান, শুক্রবার রাত থেকে ধরলার প্রানি প্রবল বেগে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। বাড়িতে থাকতে না পেরে ছেলে-মেয়ে, গরু ছাগলসহ মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছি। সে মাদ্রাসার মাঠও তলিয়ে গেছে। যে হারে পানি বাড়ছে তাতে মনে হয় এখানেও আর থাকা যাবে না।

একই এলাকার মঞ্জুরী বেগম জানান, বাড়িতে এক বুক পানি। সকাল থেকে চৌকি উচু করে বসে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসে ছিলাম। এখন আর থাকা যায়না এজন্য নৌকায় করে ছেলে-মেয়ে ছাগল ভেড়া নিয়ে বাপের বাড়িতে যাচ্ছি।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াৎ মোঃ রহমতুল্ল্যা জানান, নাগেশ্বরী পৌরসভার একাংশসহ ১০টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহম্মদ ফেরদৌস খান জানান, শক্রবার থেকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানগণকে পানিবন্দি মানুষজনের পাশে দাড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রান রয়েছে। যেখানে যা প্রয়োজন তা দেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, জেলায় ২৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তুলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, জেলায় ৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৮ ঘন্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৫৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৫৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানিও।

(দ্য রিপোর্ট/এজে/এনটি/আগস্ট ১৩, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর



রে