thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪,  ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

২০১৭ আগস্ট ১৭ ০৮:৫৪:৪২
কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট)। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

কবি ২০০৬ সালের এইদিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরনো ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি,সাংবাদিক,গীতিকার,কলামিষ্ট। দীর্ঘ ছয় দশক কবি এ সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবলীল ধারায় লেখালেখি করে বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখেন।

তার কবিতায় বাঙালিজাতির স্বাধীনতা প্রাপ্তির চেতনার দীপ্তস্বর উচ্চারিত হলেও কবিতা ও সাংবাদিকতায় মৌলবাদ বিরোধিতায় তিনি ছিলেন সোচ্চার। ধর্মান্ধতাকে কবিতার মধ্যদিয়ে আজীবন প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করেছেন। লিখেছেন প্রেম, দ্রোহ ও বিশ্বজনীনতা বিষয়ে অসংখ্য চিরায়ত কবিতা। যা আজও সকল বয়সের মানুষকে উজ্জীবিত করে। সর্বোপরি কবিতা রচনায় স্বাধীনতার কণ্ঠকে ধারণ করেন।

এ কারণেই তার সৃষ্টিশীলতার বিশালতাকে বাংলা কবিতায় তাকে স্বাধীনতার কবি বলা হয়। শামসুর রাহমান বাঙালীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিদের একজন এবং আমাদের চলার পথের পাথেয়।
শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতার বই ‘ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ’ প্রকাশ পায় ১৯৬০ সালে। এর পর ‘ষাট দশকে প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে রুদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে বসতি, নিজ বাসভূমে। দেশ স্বাধীনের পর প্রকাশ পায় ‘বন্দি শিবির থেকে’, মাতাল ঋতিকসহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কবির ৬০টি কবিতার বই। এ ছাড়া ৮টি শিশুতোষ ১১টি, গল্পগ্রন্থ ১টি, দুটি উপন্যাস-অক্টোপাস ও অদ্ভুত আঁধার, নাটক ও কবিতাগ্রসহ অনুবাদগ্রন্থ ৯টি, নির্বাচিত কলাম, নির্বাচিত কবিতার চারখন্ডসহ কবির বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, একুশের পদক, কলকাতা থেকে আনন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।

কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন বাসসকে বলেন, কবি শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্য ও সমসাময়িক বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সৃষ্টিশীল আধুনিক কবি। প্রগতিধারা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধ ও নাগরিক জীবনবোধের কবি। প্রাশ্চাত্যধারায় বাংলাসাহিত্যে যে পঞ্চকবির একটা যুগ শুরু হয়েছিল, সেই চেতনাকে শামুসর রাহমান বেগবান করেছেন তার কবিতায়। কবিতার ভুবনে মানবিক ভূমিকে স্পর্শ করেন। রাজত্ব করেছেন। তিনি আমাদের কবিতা লেখা শিখিয়েছেন।

কবি হাবিবল্লাহ সিরাজী বাসসকে বলেন, শামসুর রাহমান বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি নগরে বাস করলেও শুধু নাগরিক কবি ছিলেন না, ছিলেন জনতার কবি। ,স্বাধীনতার এ কবি দেশের ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কোন অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে, কোন অনাচার হতে দেখলে নিজেকে একাত্ম করে নিতেন এবং তার জবাব দিতেন কবিতার ভাষায়। আশা, বেদনা, ভালোবাসা, দ্রোহ কোনো কিছুই বাদ যায়নি তার কবিতা থেকে। তিনি বলেন, কবি শামসুর রাহমানের প্রতি সেদিনই আমরা সঠিক শ্রদ্ধা জানাতে পারব যেদিন বাংলার মাটি থেকে চিরতরে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে।

কবির প্রসঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ বাসসকে বলেন, শামুসর রাহমান হচ্ছেন বাংলা কাব্যসাহিত্যের আধুনিক কবিতার অন্যতম রুপকার। তাঁর কবিতায় নিজম্ব একটা ক্ষেত্র নির্মাণ করেন। মানিবকবোধ, মুক্তিসংগ্রামের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম, দ্রোহ অত্যন্ত বলিষ্টভাবে নির্মিত তার কবিতায়। অনাদিকাল তার সৃষ্টি আমাদের উজ্জীবিত করবে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে আজ সকাল সাড়ে দশটায় বনানী কবরস্থানে কবি শামসুর রাহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ এক বিবৃতিতে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত নেতৃবৃন্দকে সকাল দশটার মধ্যে বনানী কবরস্থানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়াও কবির সমাধিতে শামসুর রাহমানের পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ ছাড়া কবির গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাহাড়তলী গ্রামেও দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হবে।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/আগস্ট ১৭, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে