thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪,  ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

কুবি উপাচার্যকে কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা, শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

২০১৭ আগস্ট ২০ ১৯:৪৫:৪২
কুবি উপাচার্যকে কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা, শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

কুবি প্রতিনিধি : ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ক্লাস নেওয়ায় ছাত্রলীগের দাবির প্রেক্ষিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় তাকে বাধা দেয় শিক্ষকরা। ঐ শিক্ষকের বাধ্যতামূলক ছুটির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্যকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যাহারের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ১২ ঘন্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাগাতারভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

জানা যায়, মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। এর ২ ঘন্টা পর উপাচার্য তার কার্যালয়ে যেতে চাইলে প্রশাসনিক ভবনের নীচতলায় তাকে বাধা দেয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শিক্ষক সমিতি। এ সময় শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতারা উপাচার্যের কাছে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সাথে শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উপাচার্য ও শিক্ষক নেতারা দিনভর প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় করিডোরে অবস্থান করেন। এ সময় উপাচার্যপন্থী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. খলিলুর রহমানকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে কটুক্তিমূলক বাক্য প্রয়োগ এবং শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসতে দেখা যায়।

দিনভর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না পেরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধান প্রকৌশলীর কক্ষে শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে আলোচনায় বসেন উপাচার্য। প্রায় ১ ঘন্টা আলোচনা শেষে উপাচর্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা চলছে। আশা করি ইতিবাচক কিছু হবে।’

অপরদিকে ঐ শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটি প্রত্যাহারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যকে ১২ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আইনি নোটিশ করেছে মাহবুবুল হকের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুঁয়া।

আইনি নোটিশের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এই নোটিশ আমি এখনো পাইনি।’

এদিকে, গত ১৭ আগস্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত নৃ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক উপাচার্য ও প্রক্টরের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষক।

অভিযোগ পত্রে ঐ শিক্ষক উল্লেখ করেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষককে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর প্রতিবাদ করায় উপাচার্য তাকে ‘হারামজাদা’ বলে গালি দেন। একই সময়ে প্রক্টর ড. কাজী মো. কামাল উদ্দিন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘আমার দপ্তরে অভিযোগ গিয়েছে, কিন্তু এখনও ওটা হাতে পাইনি।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মো. আইনুল হক বলেন, ‘আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আমাদের আন্দোলন চলবে।’

এছাড়া নিজ বিভাগের শিক্ষকের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কেউই ক্লাস ও পরীক্ষায় বসবেন না বলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান। এ বিষয়ে তারা একটি স্মারকলিপি উপাচার্য বরাবর দিয়েছেন। এতে ঐ শিক্ষককে এক ছাত্রলীগ কর্মীর প্রাণনাশের হুমকির জন্য তার বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।

অপরদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ দিনের মত রবিবার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের সামনে নৃ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান ও তার শিক্ষার্থীরা অবস্থান করেছেন।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচএ/আগস্ট ২০, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শিক্ষা এর সর্বশেষ খবর

শিক্ষা - এর সব খবর



রে