thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪,  ৪ মহররম ১৪৩৯

মুনাফা বেশি দেখিয়েছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস

২০১৭ আগস্ট ২০ ২০:১৩:০৩
মুনাফা বেশি দেখিয়েছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ হিসাব মান (আইএএস ও বিএএস) লংঘন করে মুনাফা বেশি দেখিয়ে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করতে যাচ্ছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস। একইসঙ্গে সম্পদের পরিমাণও বেশি দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া শ্রম আইনসহ আরও নানা অনিয়মে রয়েছে কোম্পানিটি।

বিএএস-১২ অনুযায়ি, প্রযোজ্য হলেও ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডেফার্ড টেক্স গণনা করেনি ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস। এ ছাড়া এ বাবদ পরবর্তীতে সমন্বয়ও করা হয়নি। যাতে বর্তমানে নীট সম্পদের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া ২০১৫ সালের আগে সঠিক মুনাফা দেখানো হয়নি।

প্রাচীর, ফ্যাক্টরীর ভিতরে রাস্তা, পার্কিং প্লেস, বাগান ইত্যাদি ল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট। এসব সম্পত্তির নির্দিষ্ট আয়ুস্কাল আছে। যে কারনে বিএএস-১৬ অনুযায়ি, ল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট অবচয়যোগ্য সম্পদ। কিন্তু ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস কর্তৃপক্ষ ল্যান্ড ডেভোলপমেন্টের উপর অবচয় চার্জ না করে সম্পদ ও মুনাফা বেশি দেখিয়ে আসছেন।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট সামসুর রহমান (এফসিএমএ) বলেন, প্রাচীর, ফ্যাক্টরির ভিতরে রাস্তা, পার্কিং প্লেস, বাগান ইত্যাদি ল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট সম্পদ। এসব সম্পদের উপর অনেকে অবচয় চার্জ করে না। যাতে সম্পদ ও মুনাফা বেশি দেখানো হয়।

কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, ল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট সম্পদ থাকলেও এর উপর অবচয় চার্জ করা হয়নি। আর ডেফার্ড টেক্স আগে করা হয়নি এবং সমন্বয় করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে রিস্টেট ইপিএস বলতে মোট শেয়ার দিয়ে মুনাফাকে ভাগ করে হিসাব করাকে বোঝানো হয়। কিন্তু ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস কর্তৃপক্ষ নোট ২৮ এ ওয়েটেড শেয়ার দিয়ে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রিস্টেড ইপিএস দেখিয়েছে। যাতে রিস্টেড ইপিএস বেশি দেখানো হয়েছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ১৫) ভুল শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখিয়েছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস কর্তৃপক্ষ। এ সময় ০.৯৩ টাকার পরিবর্তে ০.৫৩ টাকা ইপিএস দেখানো হয়েছে। বিএএস-৩৩ অনুযায়ি, শেয়ার ওয়েটেড না করে এ ভুল ইপিএস দেখানো হয়েছে।

বিএএস অনুযায়ি, প্রিফারেন্স শেয়ার ও অন্যান্য বিষয় যখন কমন বা সাধারন শেয়ারে রুপান্তর হয়, তখন ডাইলুটেড ইপিএস গণনা করতে হয়। এ জাতীয় কোন কিছু না ঘটায় ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডসে ডাইলুটেড ইপিএস গণনা প্রযোজ্য নয়। তবে কোম্পানিতে ডাইলুটেড ইপিএস এপলিকেবল বলে প্রসপেক্টাসের ১৩৮ পৃস্টায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৮ পৃষ্টায় ডাইলুটেড বলে ভুল ইপিএস দেখানো হয়েছে।

শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করেছে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস। একইসঙ্গে শ্রমিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। কোম্পানিটি ২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইনানুযায়ী, ২০১২ সাল পর্যন্ত নীট আয়ের ৫শতাংশ হারে ফান্ড গঠন এবং বিতরণ কোনোটাই করেনি। ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর পরের ৩ বছর ফান্ড গঠন করা হলেও আইন অনুযায়ি বিতরন করা হয়নি।

ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডসে ২০১৬ সালের ৩০ জুন নিট শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাড়িয়েছে ১৪.৮৭ টাকা। তবে এ সম্পদ দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান বাজার সংশ্লিষ্টদের। কারণ এখন কোম্পানির এনএভিপিএস ১৪.৮৭ টাকা থাকলেও আইপিও পরবর্তীতে ১.৯২ টাকা কমে ১২.৯৫ টাকায় নেমে আসবে।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ি, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস প্রিমিয়াম পাওয়ার যোগ্য হলেও শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে শেয়ারবাজারে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘আর্নিংস বেজড ভ্যালু পার শেয়ার’ পদ্ধতিতে শেয়ারপ্রতি ৩১ টাকা পাওয়ার যোগ্য বলে প্রসপেক্টাসে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে ১.৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করা হবে। কিন্তু একটি কোম্পানির সমস্যা থাকলেই শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে আসতে চায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, এখন কোম্পানিগুলো ইস্যু ম্যানেজারদের সহযোগিতায় বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণা করছে। কোম্পানিতে কিছু না থাকলেও তারা সুন্দর করে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এমন কোম্পানির আইপিও অনুমোদনে বিএসইসির সতর্ক হওয়া দরকার।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, একটি কোম্পানির ব্যবসায় ভালো হলেও ও সম্পদ থাকলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসতে চাইবে। কোনো ভালো কোম্পানি দীর্ঘদিন ব্যবসা করে শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে শেয়ারবাজারে আসতে পারে না। এক্ষেত্রে যেসব কোম্পানির সমস্যা বা দূর্বলতা আছে, সেসব কোম্পানিই শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে আসতে পারে।

কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, রিস্টেট ইপিএসে ভুল হয়েছে এবং তা পরে সংশোধন করা হয়েছে বলে জানান ইকরামুল ইসলাম। তবে প্রসপেক্টাসে এ সংশোধন দেখাতে পারেননি। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকের ইপিএস হিসাব মানের বাহিরে গিয়ে ভুলভাবে করা হয়েছে বলে জানান। একইসঙ্গে বিএএস অনুযায়ি ডাইলুটেড ইপিএস প্রযোজ্য না হওয়ায় সংশোধন করা হয়েছে। তবে সব জায়গায় করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সিএফও জানান, শ্রম আইনটি সঠিকভাবে জানা নাই। আর ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে শেয়ারবাজারে আসবে।

২০০৫ গঠিত কোম্পানিটির উৎপাদন শুরু হয় ২০১০ সালে। যে কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত টাকা ১২ মাসের মধ্যে ব্যবহার করবে।

(দ্য রিপোর্ট/আরএ/আগস্ট ২০, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে