thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫,  ৮ শাবান ১৪৩৯
অনন্ত সুজন

অনন্ত সুজনের হাড়ের জ্যোৎস্না থেকে ৫টি কবিতা

২০১৭ ডিসেম্বর ২২ ০০:০৮:০৭
অনন্ত সুজনের হাড়ের জ্যোৎস্না থেকে ৫টি কবিতা


আপেল

এ এক অভিজ্ঞান,
গায়েবি গোল আকাঙ্ক্ষা
আপেল আসক্তির আবর্তে উন্মাতাল।
জন্মবৃত্তান্তে পরিচয় ছিল লাল।

বহুবর্ণে উদ্ভাসিত আজ।

ক্ষুধাগ্রহের অপরিমেয় আর্তনাদ যখন ম্লান—
প্রাণের জরুরি বিভাগে
অজস্র ঝংকার সোমত্ত বিউগল বাজায়।
তখনো শ্রেণি-সংগ্রামের আস্তিন থেকে
উড়ে যায় শাখা-প্রশাখার ক্ষয়।

অদূরেই লবণাক্ত ভয়,
অগ্নিপুচ্ছ নিঃসঙ্গ মৃতের পোশাকে।


সূত্র

তিল থেকে পেয়েছি বিলের ধারণা
ওখানে প্রেম জমা দিলেই অজস্র গ্রন্থি ছিঁড়ে
বেরিয়ে আসে হাড়ের জ্যোৎস্না;
অক্ষত গোধূলি যে-কারণে চুমুর প্রতিবেদন।

জানতো যদি ঘুণাক্ষরে এ কথা— রাজ্যের মৌমাছি
তোমাকেই ভাবতো তবে জগৎফুল।


চুম্বন

চিবুকের আড়ালে মুদ্রিত তিল
বিলের আবেগ নিয়ে প্রসারিত
নৈঃশব্দ্যের নিবিড় ডাকঘর এক।

বাসনার আছে সুতীব্র বিলাস
স্বোপার্জিত সংকেত বহুবর্ণিল
রতির বিলোড়ন দ্বিধাজলে স্নাত
এ-দ্বীপ থেকে ও-দ্বীপে যেতে চায়।

সংবেদ ভালো বুঝে চিত্রিত প্রজাপতি
গোপনে যে রোদফুল রেখে এলো—
জড়তার গম্ভীর মেঘের ওপর
চন্দ্রপিপাসার নাম ক’রে মুহূর্তেই
উদ্দীপ্ত রংধনুতে ডালিমের লাল।


না কবিতা

আক্ষরিক অর্থে তুমিও যাকে নিঃসঙ্গতা বলে অভিহিত করো—
তার সংজ্ঞা ও অস্তিত্বকে বরাবরই অস্বীকার করেছি।
জানি না, কিভাবে নিঃসঙ্গ হয় মানুষ।
নিজেরই ভেতর অসীম সমুদ্রের উন্মাদনা থাকতেও—
অহর্নিশ জলের অন্বেষণ করে।

অথচ প্রতিটি বিহ্বল বিকেলে
নীল তিমি অদেখা হাসি রেখে যায় বালিয়াড়ি জুড়ে।
ঘামের প্রশ্রয়ে এত যে লবণ, সে-ও এক গণিত।
উপকূলে ঝাউপাতা অবিরাম কাঁপে,
ঢেউদল অসংখ্য ক্যাঙ্গারুর লম্ফনরীতি রপ্ত ক’রে
ঠিকরে আসে হৃদয়ের বেলাভূমি লক্ষ্য ক’রে।
................সে-সব বিদ্যুৎ অশেষ শোভাকর
................পেঙ্গুইনের হিমডানার লঘু অন্ধকারে—
................পৃথিবীতে প্রথম যারা তুষার ঝরিয়েছিল।
তবুও কি কথা অসমাপ্ত রয়ে যায়? বলো সন্ধিক্ষণ,

খরগোশের পায়ের নিচে নিভু নিভু কচ্ছপের যাপিত জীবন?
এক ঋতু থেকে আরেক ঋতুর দূরত্ব খুব বেশি নয়—
ওরা যে রক্তের ভেতর খেলা-করা যমজ বোন।


হয়তো অতিকথনকে ফিরিয়ে দিতে পারো—
সে কিন্তু বসে থাকে সন্ধের সমভাবে;
ফেলে-আসা সঙ্গ-প্রসঙ্গের আড়ালে জ্যোৎস্নাখোদিত—
.....................................ওই স্মৃতির ডাকপিয়ন।



শোধ

জওয়ান পুষ্পটা আমূল বিদ্ধ হলো
পাপড়িগুলো রক্তভারে মূর্ছা যায়—
যন্ত্রণার অভিজ্ঞানে।
দূরগ্রামে মেঘের সাথে গ্রহের বিবাদ
হাপরের সবটুকু ক্রোধ ঢেলে দিলো।
হয়তো অনেকেই দিবানিদ্রায়—

....................আচ্ছন্ন তখন।

হিসেবের বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখলাম,
কে যেন অবেলায়-অভিমানে নিজেরই
নাকফুল ফেলে গেছে।
চারপাশে একরাশ ক্রন্দন-কোলাহল
..............ডুবে যাচ্ছে বিধবামন্দিরে।
বিশ্বাস করো, ওটা ছিল অবিকল বরইফুল
শুধুই ফলের ইঙ্গিত দিত।
এমন বিরোধ কাম্য ছিল না,
যে প্রেমে অস্ত্র খুঁজি নিশিদিন
সীমান্তের ওপারে বামনেরা উল্লাসে মত্ত
সেইসব ধ্বনি কর্ণকুহরে তপ্ত সিসা হয়ে
.............................ঢুকে পড়ছে।

রাষ্ট্র তখনও নির্বিকার?
আমার কোনো সামরিক পোশাক নেই;
তবুও প্রতিটি স্বপ্নের ভেতর
প্রতিশোধমুখর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি—
তাতে নাফ নদীর নিরীহ জল লাল ক’রে
বীভৎস ভাসতে থাকে মিয়ানমার-সেনা।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সাহিত্য এর সর্বশেষ খবর

সাহিত্য - এর সব খবর



রে