thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫,  ৯ রবিউস সানি ১৪৪০

ঢাকার অদূরে নির্মিত হচ্ছে ‘হাব পল্লী’

২০১৭ ডিসেম্বর ২৫ ১৯:৫৮:৪৪
ঢাকার অদূরে নির্মিত হচ্ছে ‘হাব পল্লী’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ঢাকার অদূরে (আমিন বাজার ব্রিজের পর) হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সদস্যদের জন্য নির্মিত হচ্ছে ‘হাব পল্লী’। ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কের পাশে মধুমতি মডেল টাউনের পশ্চিমে (কেরানীগঞ্জের ভাকুর্তা মৌজা) ১০ বিঘা জমির উপর এই ‘হাব পল্লী’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় শত কোটি টাকায় নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি বাস্তায়িত হলে হজ এজেন্সির অন্তত চারশ’ মালিক একই এলাকালায় বসবাসের সুযোগ পাবেন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউনের ভিতর দিয়ে ৮০ ফুট রাস্তা চলে গেছে হাব পল্লীর দিকে। কিছুদূর এগুতেই দেখা যায় ‘হাব পল্লী’র জন্য নির্ধারিত জায়গায় সাইনবোর্ড। সেখানে চলছে মাটি ও বালু ভরাটের কাজ। সেখানে হাবের বিপুল সংখ্যক সদস্যও উপস্থিত হয়েছেন। তাদের জন্য কেনা জায়গা দেখছেন, ছবি তুলছেন। চলছে ৮০ ফুট প্রশ্বস্ত একটি সার্ভিস সড়ক নির্মাণের কাজও। ভূমি উন্নয়নকারী সংস্থা জমজম ডেভেলপারস কোম্পানি প্রকল্পের প্রায় ১,৫০০ বিঘা জমির একপাশে পূর্বদিকে একসঙ্গে ১০ বিঘা জমির ওপর এই ‘হাব পল্লী’ গড়ে তোলার কাজ করছে।

জমজম ডেভেলপারস এর স্বত্ত্বাধিকারী ও হাবের সাবেক মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, প্রজেক্টের ভেতর দিয়ে প্রশ্বস্ত সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। যা বছিলায় বড় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এছাড়া পূর্ব-পশ্চিমে আরো একটি ৬০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু হবে। যা ‘হাব পল্লী’র প্লটগুলোর ঠিক মাঝামাঝি দিয়ে গাবতলী এলাকায় গিয়ে প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে এ পল্লীতে বসবাসকারী সুবিধাভোগীরা দ্রুতই ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

হাব পল্লী প্রতি ৫ কাঠার ৪০টি প্লটে মোট ১০ বিঘা জমি রয়েছে। এতে জমির মূল্য ধরা হয়েছে মোট ছয় কোটি টাকা। প্রতি কাঠার মূল্য হবে তিন লাখ। এরসঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন এবং পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সড়কসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করে প্রতি কাঠার মোট মূল্য দাঁড়াবে ছয় লাখ টাকা। এ হিসেবে জমিতে হাব পল্লীর মোট ব্যয় হবে প্রায় ১২ কোটি টাকা। এ হিসেবে প্রতি সদস্যের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সদস্যদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এখানে সব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান হাবের সাবেক এই মহাসচিব।

তিনি আরো জানান, রাস্তা বাদ দিয়েই হাব পল্লীর জন্য ২০০ কাঠা জমি নির্ধারিত আছে। ইতিমধ্যে এ জমি গ্রহিতাদের নামে রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশন হয়ে গেছে। ১২ কোটি টাকার মধ্যে ৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা শোধ হয়েছে। বাকী টাকা প্রতিমাসে ২০ লাখ টাকা হারে কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও গত ৯ মাস ধরে এ কিস্তি দিচ্ছে হাবের নির্বাহী কমিটি। তারপরেও ‘হাব পল্লী’র সদস্যদের দাবির মুখে সেখানে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। হাবের বর্তমান কমিটি আমাদের সহযোগিতা করলে সদস্যদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রজেক্টটি বুঝিয়ে দিতে পারব-যোগ করেন শেখ আব্দুল্লাহ।

হাবের কিছু কিছু সদস্য অভিযোগ করে আসছেন সাবেক কমিটির নেতারা ‘নিচু জায়গা’ বেশি দাম দিয়ে কিনেছেন। এ প্রসঙ্গে হাবের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, আপনারাও তো দেখলেন এই জমি নিচু নাকি কি? আজকে এই জায়গা দেখতে অনেকেই এসেছেন। তারাও সরেজমিনে ‘হাব পল্লী’র জায়গা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মূলত এই জায়গা নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আশা করছি জমিটি দ্রুতই হাব পল্লীর কাছে হস্তান্তর করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। জমিটি হস্তান্তর হলেই সেখানে সদস্যদের জন্য আবাসন তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এতে সদস্যরা দ্রুতই একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসের সুযোগ পাবে।

জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফরিদ মজুমদার বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই জমিটি কেনা হয়েছে। হাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোন কিছু কেনা-বেচা করা যাবে না, এমন কোন নিয়ম বা বিধান নেই। বরং হাব সদস্যের থেকে জমিটি কেনার কারণেই জমিটির নিষ্কণ্টকতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কোন ঝামেলা হলে ওই সদস্যকেই এর দায় নিতে হবে।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/জেডটি/ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর