thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪,  ৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক নয় : মির্জ্জা আজিজ

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ১২ ২১:৫৬:৫০
শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক নয় : মির্জ্জা আজিজ

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফার্স হোটেলে বিজনেস আওয়ার আয়োজিত ‘শিল্পায়নে আইপিওর গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই শেয়ারবাজারে কিছু সমস্যা হয়। আমাদের দেশেও হয়। কিছুদিন আগেও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে সেটা আশঙ্কাজনক না। এখন শেয়ারবাজার সুষ্ঠুভাবে চলছে।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনে সময়ক্ষেপণের কারণে ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে না। এমতাবস্থায় স্বল্প সময়ে আইপিও অনুমোদন দেওয়া দরকার।

দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ) যথাযথভাবে হয়নি মন্তব্য করে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে ৪০ শতাংশ ট্রেকহোল্ডার রেখে প্লেয়ারদের সঙ্গে মিউচ্যুয়ালাইজড করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডাররা শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা । এরাই ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে পতনের সঙ্গে জড়িত।

বিশেষ অতিথি বিএসইসির সদস্য ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, কমিশন আগের চেয়ে দ্রুত সময়ে আইপিও অনুমোদন দিচ্ছে। আবেদনে নানা রকম ভূল থাকায় অনেক সময় দেরি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর্থিক হিসাবে গরমিল থাকায় এগুলো সংশোধন করে অনুমোদন পেতে সময় লাগছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, আইপিও’র মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারনে কোম্পানিগুলো আসার আগেই রুগ্ন হয়ে পরছে।

তিনি বলেন, ১০ শতাংশ করের সুবিধা থাকা সত্বেও কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে লিস্টেট হচ্ছে না। এতে বুঝা যাচ্ছে ওইসব কোম্পানিগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাই যেসব কোম্পানির স্বচ্ছতা রয়েছে কেবল তারাই শেয়ারবাজারে লিস্টেড হচ্ছে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, গত ১৩ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে সবচেয়ে কম সংখ্যক কোম্পানিকে আইপিও’র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদনে যে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেয়ারবাজারের উন্নয়নে এই সময় কমিয়ে আনতে হবে।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও অনুমোদনে দেড় বছরের বেশি সময় লেগে যায়। আইপিও অনুমোদনে এই দীর্ঘ সময় ইস্যুয়ার কোম্পানির উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে আইপিও অনুমোদনে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগে। সেখানে আমাদের দেশে দেড় বছর অবশ্যই বেশি সময়। তবে সবাই মিলে চেষ্টা করলে এই দীর্ঘ সময়কে কমিয়ে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে আনাসম্ভব।

কর্মশালায় ওমেরা ফুয়েলসের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) ও বিজনেসআওয়ার২৪.কমের প্রধান উপদেষ্টা আক্তার হোসেন সান্নামাত বলেন, ব্যাংকগুলো মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। এক্ষেত্রে ঋণ ও সুদ প্রদান অনেক সময় কোম্পানিগুলোর জন্য বোঝা হয়ে দাড়াঁয়। এমতাবস্থায় ঋণের পরিবর্তে বিভিন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে উৎসাহিত করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে ঋণের বিপরীতে সুদের হার ২-৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ব্যাংকের ঋণের কারনে মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে। এমতাবস্থায় শেয়ারবাজার থেকে অর্থায়ন করা যৌক্তিক হবে।

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের সভাপতি হাসান ঈমাম রুবেল বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার। তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত হবে।

তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নে গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই শিল্পায়নে শেয়ারবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে