thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫,  ৯ রমজান ১৪৩৯

খুলনায় অনিয়ম ছিল, তবে ফল বদলানোর মতো নয়

২০১৮ মে ১৬ ১৯:০০:৩৪
খুলনায় অনিয়ম ছিল, তবে ফল বদলানোর মতো নয়

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটি মোর্চা। তবে তারা বলছে, এসব অনিয়ম না ঘটলেও ভোটের ফলাফল একই থাকত।

বুধবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের পর্যবেক্ষণে পাওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডাব্লিউজি)।

এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক প্রায় ৬৬ হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে দেন।

প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই সিটি করপোরেশনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত করতে হয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। ভোটের হার ছিল ৬২ দশমিক ১৯।

ইসি ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ১০০টি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন।

নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ইডাব্লিউজির পরিচালক মো. আব্দুল আলীম বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের জন্য সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ওই সব ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়ায় তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

মোট ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১৪৫টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তার ভিত্তিতে নিজেদের প্রতিবেদন দিয়েছে ইডাব্লিউজি।

আলীম বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষক দল ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা দেখতে পেয়েছে; এর মধ্যে অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সংগঠিত সামান্য সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রে অননুমোদিত মানুষের উপস্থিত এবং ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে।

ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষণে অনিয়ম

- অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ২৮টি কেন্দ্রে

- বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের ঘটনা ৪টি

- ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সহিংসতার ঘটনা ১৬টি

- ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ১৮টি

- ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে প্রার্থীদের যানবাহন দেওয়ার ঘটনা ১৭টি

- পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ৪টি

- ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ১০টি

অনিয়মে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার, ১০টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সাতটিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

আলীম বলেন, এসব ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোট গণনা শুরু, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা, গণনার আগে সব ব্যালট বাক্সে নিরাপত্তা সিল লাগানো ছিল।

৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট দেখতে পেয়েছে ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির আরেক পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, “নির্বাচনে অনিয়মের বেশ কিছু ঘটনা আমরা হাজির করেছি। এসব ঘটনা তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে ভবিষতে নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ছোট বা বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির অংশীদার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের কো-অর্ডিনেটর আ হ ম ফয়সাল, আরেকটি অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান জমাদার উপস্থিত ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/মে ১৬, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে