thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২ ভাদ্র ১৪২৫,  ৫ জিলহজ ১৪৩৯

তাবলিগ চলবে দেওবন্দের উসুলে: আহমদ শফী

২০১৮ জুলাই ২৮ ২২:৫৮:২১
তাবলিগ চলবে দেওবন্দের উসুলে: আহমদ শফী

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : মাওলানা সাদ কান্ধলভী বিরোধীদের সমাবেশে যোগ দিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, 'তাবলিগ জামাত চলবে দেওবন্দের দেখানো পথে (উসুলে)। কোনো মারকাজের নির্দেশে নয়। নতুন কোনো পথ নয়, প্রয়াত তিন মুরব্বি যে উসুলে কাজ করছেন তাবলিগ সেই উসুলে চলবে।'

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কবরস্থান মাঠে তাবলিগ জামাতের 'সংকট নিরসনে' আয়োজিত ওয়াজাহাতি জোড় অনুষ্ঠিত হয়। সংকট নিরসনে জোড় আয়োজিত হলেও এতে মাওলানা সাদের অনুসারীদের কেউ যোগ দেননি। বাংলাদেশে তাবলিগের ১১ শূরা সদস্যেরও কেউ ছিলেন না সেখানে। জোড় থেকে ছয় দফা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, প্রয়াত তিন মুরব্বির উসুল থেকে 'সরে যাওয়ায়' মাওলানা সাদকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ।

১৯২০ সালে তাবলিগ জামাত প্রতিষ্ঠা করেন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)। দিল্লির নিজামউদ্দিনে তাবলিগের প্রধান মারকাজ। বাংলাদেশে ঢাকার কাকরাইল ও পাকিস্তানের লাহোরের রাইবেন্ডে শাখা মারকাজ রয়েছে। ইলিয়াস (রহ.) এর মৃত্যুর পর তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ তাবলিগের আমির হন। মাওলানা ইউসুফের পর ছেলে মাওলানা সাদ কান্ধলভী আমির হন। তবে ইসলাম শিক্ষার বিনিয়মে অর্থ গ্রহণ করা যাবে না- বাংলাদেশের আলেম-ওলামারা তার এই বক্তব্যসহ আরও কিছু মতামতের বিপক্ষে।

এ নিয়ে তাবলিগে প্রায় বছর দুয়েক ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধিতার কারণে গত জানুয়ারিতে ঢাকায় এসেও ইজতেমায় যোগ দিতে পারেননি মাওলানা সাদ। তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেও বাংলাদেশের তাবলিগের ১১ শূরা সদস্যের পাঁচজনই তার বিরোধী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা সমঝোতা হলেও তাবলিগের বিরোধ মেটেনি। গত মে মাসেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে কাকরাইলে।

দুপক্ষের বিরোধের মধ্যেই শনিবার মোহাম্মদপুরে ওয়াজাহাতি জোড় করে সাদ বিরোধীরা। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাটহাজারী দারুল উলুম মইনিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী বলেন, 'নবীর (সা.) লাঠির রেখার ওপর প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দ। দেওবন্দের ফতোয়া মেনে চলতে হবে। তাবলিগের তিন মুরব্বি যে উসুলে কাজ করেছেন কেয়ামত পর্যন্ত সে উসুলেই চলবে। এ কাজের মুরব্বি হবেন উলামায়ে কেরামরা। যারা আলেমদের অপমান করেছে, মারধর করেছে, তারা নয়। তাবলিগ আদব শেখায়। যাদের আদব নেই তাদের তাবলিগ কীসের!'

জোড়ে আগতদের ধর্মীয় বিষয়ে নসিহত করেন আল্লামা আহমদ শফী। রাজনীতি ও চলমান ইস্যুতে কথা বলেননি হেফাজত আমির। উপস্থিত আলেম-ওলেমাকে তিনি বলেন, প্রত্যেক এলাকার এমপির কাছে যাবেন। শরিয়া মেনে চলতে তাদের দাওয়াত দেবেন।

ছয় দফা ঘোষণা পড়ে শোনান খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। এতে বলা হয়, মাওলানা সাদ শূরাকে উপক্ষো করে নিজেই নিজেকে আমির দাবি করেছেন, যা শরিয়ত বিরোধী। তাই তার কোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশ কাকরাইল তথা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা যাবে না।

ছয় দফা ঘোষণায় দেওবন্দের বরাতে বলা হয়, তাদের আশঙ্কা মাওলানা সাদ সাহেব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শ থেকে সরে গেছেন। কাকরাইল, টঙ্গী ময়দান এবং জেলা মারকাজ তাবলিগের তিন মরহুম মুরব্বির উসুলে চলবে। যারা মাওলানা সাদের 'ভ্রান্ত আকিদা' অনুসরণের হলফ করেছেন তারা শূরার সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাদের শূরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় গতকালের জোড় থেকে।

ওয়াজাহাতি জোড় থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সরকারের পরামর্শক্রমে আগামী বছরের ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং ২৫, ২৬ ও ২৭ বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক হাজার আলেম-ওলামা যোগ দেন জোড়ে। এতে বক্তৃতা করেন জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা আশরাফ আলী, জামিয়া বারিধারার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মারকাজুদ দাওয়ার আমিনুত তালিম মুফতি আবদুল মালেক, কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহতামিম আজহার আলী আনোয়ার শাহ, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/জুলাই ২৮,২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ধর্ম এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম - এর সব খবর



রে