thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বরিশালে বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের ভোট বর্জন

২০১৮ জুলাই ৩০ ১২:৩৯:১৬
বরিশালে বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনের ভোট বর্জন

বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির (ধানের শীষ) মেয়রপ্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ও ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) মেয়রপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া বেলা ১১টার দিকে সদরের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ওবাইদুর রহমান মাহবুব।

সংবাদ সম্মেলনে মজিবর রহমান সরোয়ার অভিযোগ করে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে নগরীর ৮০টির বেশি কেন্দ্র দখলে নিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। তারা সেখানে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ফেলছে।

এছাড়াও তিনি ভোট কারচুপি, এজেন্টদের মারধর ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তোলেন।

এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। সেসময় তিনি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার ৫০ জন পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। যেখানে পুলিশের আমার এজেন্টদের সুরক্ষা দেয়ার কথা সেখানেই তারাই বের করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছে। সেখানে বিএনপির নেতা কর্মীদের, এমনকি ভোটারদেরও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আবার ছাত্রলীগ বা যুবলীগকে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না।

মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ আছে যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানী করা না হয়। যেখানে তারা হাইকোর্টের আদেশই মানছে না সেখানে কমিশনে অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই।
তিনি বলেন, কোনও অভিযোগই তারা আমলে নেননি। এ অবস্থা আমি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সকাল ৮টার দিকে ভোট শুরুর পরই সরকারদলীয় মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে ঢুকে জালভোট দেন। এতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ কারণেই ভোট বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১২৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১২টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। এর মধ্যে ৫৫টি ভোটকেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সিটির ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারের ৩০টি মোবাইল টিম ও ১০টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে।

এ ছাড়া র‌্যাবের ৩০টি টিম ও ১৫ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। এর বাইরে ৪ প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে সাত মেয়রপ্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে বশিরুল হক ঝুনু নামে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। বাকি ছয় মেয়রপ্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বরিশাল সিটিতে সাধারণ ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩টিতে ও একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বাকি ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৯১ জন ও ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটিতে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬, যার মধ্যে পুরুষ এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ ও নারী ভোটার এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/জুলাই ৩০, ২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর