thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

রামকে নিয়ে আবার তোড়জোড় বিজেপির

২০১৮ নভেম্বর ০৭ ২২:৩৯:০৬
রামকে নিয়ে আবার তোড়জোড় বিজেপির

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বুধবার ঘোষণা করেছেন যে অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরির পরিকল্পনায় এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে।
মন্দিরের ভেতরে স্থাপন করা সেই মূর্তিটিই ভবিষ্যতে অযোধ্যার কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, যোগী আদিত্যনাথ বুধবার সকালে গিয়েছিলেন অযোধ্যার বিতর্কিত সেই ভূমিতে অবস্থিত রামচন্দ্রের অস্থায়ী মন্দিরে যেখানে একটা সময়ে ছিল বাবরি মসজিদ।

মঙ্গলবারই তিনি ফৈজাবাদ শহরে নাম বদল করে অযোধ্যা রেখেছেন তিনি। একইসাথে ঘোষণা করেছেন রামচন্দ্রের নামে বিমানবন্দর হবে আর মেডিক্যাল কলেজ হবে রামচন্দ্রের পিতা দশরথের নামে।

তবে যে রাজনৈতিক ঘোষণার জন্য অনেকে অপেক্ষা করেছিলেন, মঙ্গলবার তা নিয়ে কোনও শব্দ খরচ না করলেও যোগী আদিত্যনাথ সেই ঘোষণাটি করেন বুধবার - অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হবে, যেখানে থাকবে রামের একটি বিশালাকার মূর্তি।

তবে বিতর্কিত ভূমিতে নয়, মন্দিরের জন্য চলছে নতুন জায়গা বাছাই।

প্রায় তিনদশক আগে থেকে বাবরি মসজিদের চত্বরেই রাম মন্দির তৈরি করতে হবে, এই দাবী তুলে এসেছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তা নিয়ে আইনি জটিলতা সুপ্রিম কোর্টে আগেই পৌঁছিয়েছে।

মনে করা হয়েছিল হয়তো দ্রুত সেই মামলার শুনানি শুরু করে দেবে শীর্ষ আদালত, কিন্তু জানুয়ারির আগে তার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একদিকে, অন্যদিক সাধু-সন্তরা নতুন করে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ইস্যুটাকে সামনে নিয়ে আসছেন।

কেন রামমন্দির ইস্যুকে এখন নতুন করে সামনে নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো?

কলকাতার আজকাল পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক অরুন্ধতী মুখার্জী বলছেন, "গত লোকসভা নির্বাচনের আগে মি. নরেন্দ্র মোদি নিজেকে ভারতের একজন ত্রাতা হিসাবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু চারবছর পরে দেখা যাচ্ছে বলার মতো সেরকম কোনও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই প্রায় তাঁর হাতে নেই। সেজন্যই এতদিন পরে রামমন্দির ইস্যুকে তারা তুলে নিয়ে আসছে - যাতে সাধু-সন্ত, আর এস এস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ - সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় হিন্দু ভোট একত্র করা যায়।"

গত সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির প্রচারের মূল স্লোগান ছিল উন্নয়ন। ক্ষমতায় আসার পরেও দীর্ঘ চার বছরের বেশী সময় ধরে মি. মোদী এবং তাঁর সরকারের মন্ত্রীরাও সেই উন্নয়নের কথাই বলে গেছেন।

কিন্তু এতদিন পরে উন্নয়নের স্লোগান ছেড়ে কেন আবার সেই মন্দিরের ইস্যু তুলে আনছে বিজেপি- তার ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী।

"মূল উদ্দেশ্য লোকসভার ভোট। মি. মোদি যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপরে খুব জোর দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি ভাল নয়। সেজন্যই পুরনো, পরিচিত এবং পরীক্ষিত পথে হিন্দু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটের বৈতরণী পেরুতে চাইছেন," বলছিলেন মি. লাহিড়ী।

কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বিমল শঙ্কর নন্দ অবশ্য মনে করেন অযোধ্যা এবং রামমন্দির বহুদিন ধরেই বিজেপির মূল ইস্যু।

সেই ইস্যু থেকে সরে এলে যেমন নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই এটা বিরোধী দলগুলি যে ভাবে জাতপাতের রাজনীতি করছে নানা রাজ্যে, তারই পাল্টা হিসাবে ধর্মীয় রাজনীতির কৌশল বিজেপি-র।

কিছুটা পিছনের সারিতে চলে যাওয়ার পরেও যে ফের রামমন্দির ইস্যু প্রচারে নিয়ে আসা হচ্ছে নির্বাচনের দিকে নজর রেখে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে দ্বিমত নেই। কিন্তু সেই ইস্যু হিন্দি বলয়ের কিছু অংশের বাইরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/নভেম্বর ০৭,২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর