thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

পটুয়াখালী-৩ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন দৌড়

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রাজু আহম্মেদ

২০১৮ নভেম্বর ১৪ ১৫:৩৪:০০
জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রাজু আহম্মেদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে একটি নির্বাচনী বাতাস বইছে। তারাই অংশ হিসেবে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশী প্রার্থী রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের। স্বাধীনতার পর থেকে বরাবরই আওয়ামীলীগ নির্বাচিত হয়েছে। যে কারণে অনেকেই মনে করেন এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন মানেই নিশ্চিত এমপি হওয়া।

তবে এই আসনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব সংকট রয়েছে। বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন একজন সংস্কারপন্থী নেতা এবং এলাকায় বিভিন্ন খাম-খেয়ালি কর্মকান্ডের কারণে জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাকে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দিলে চরম ঝুঁকি থেকে যাবে। এ কারণেই অনেকেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইছেন।

জানাগেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এলাকায় যথেষ্ট বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। তারপরও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে মরিয়া। এ কারণে তিনি মাঠে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্য প্রার্থীদেরকে প্রচারণার কাজে বাধা দিচ্ছেন। দশমিনায় গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের মতামত উপেক্ষা করে একজন অযোগ্য লোককে মনোনয়ন দিলে সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন। গলাচিপা উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে তিনি এককভাবে তার মনপূত প্রার্থীকে সভাপতি বানান।

বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে কারো কারো অভিযোগ রয়েছে স্বজন প্রীতির। নিজের ভাইকে ক্ষমতার জোরে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এবং তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বানান। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তাই সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে এবং তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

এসব বিবেচনায় এলাকার লোকজনের বিকল্প হিসেবে রাজু আহম্মেদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা তাকেই এই আসনে ভবিষ্যৎ এমপি হিসেবে দেখতে চায়। ৯০ দশকে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন তিনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মুল জাতীয় সমন্বয় কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়া শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গোলাম আযমের ফাঁসির দাবীতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণ আদালতে তার সহকর্মী ছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

এ আসনে আরো মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তিনি এমপি থাকাকালীন বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য বিতর্কিত হয়েছিলেন এবং দলীয় নেতা কর্মীর কাছ থেকে দূরে চলে যান। তাই ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাননি। এ আসনে আরো মনোনয়ন চান কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক কামরান শহীদ প্রিন্স মহব্বত, মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগের আইন সম্পাদক এডভোকেট ফোরকান মিয়া, দশমিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মিয়া, দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন শওকত, দশমিনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল মাহমুদ লিটন, পটুয়াখালী জেলা কৃষকলীগের সভাপতি তসলিম শিকদার, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার ভাগনে এসএম শাহাজাদা (যার কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই) প্রমুখ।

সার্বিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে- যারা এ আসনে মনোনয়ন চান তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ও সদস্য ছিলেন। কিন্তু তিনি ২০০৭ সালে সংস্কারপন্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা হারান। এরপর ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই এলাকায় আত্মীয়করণ সহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড করেন। যার ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্ত্বেও তিনি জনবিচ্ছিন্ন নেতায় পরিণত হন। অপর দিকে ৯০’র গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহম্মেদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি ছাত্র জীবন থেকে এ পর্যন্ত রাজনীতির মধ্যেই আছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংগঠনিক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছেন। এলাকায় রয়েছে তার ক্লিন ইমেজ। এছাড়া যারা এই আসনে মনোনয়ন চান তাদের কারোই এত দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। অথচ দশমিনা-গলাচিপার আওয়ামীলীগের রাজনীতি ধরে রাখতে হলে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিকল্প নেই। ফলে আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং রাজু আহম্মেদের মধ্যে মনোনয়ন নির্বাচন প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সব কিছু নির্ভর করছে আওয়ামীলীগের জরিপ, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ, মনোনয়ন বোর্ড, সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার বিবেচনার উপর, কাকে দিয়ে তিনি দশমিনা-গলাচিপার আওয়ামীলীগ ও জনগণের ঐক্য সংগঠিত করবেন, গড়ে তুলবেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/নভেম্বর ১৪,২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর