thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ২ রবিউস সানি ১৪৪০

মৃত নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম

২০১৮ ডিসেম্বর ০৫ ২২:০১:৩৪
মৃত নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : জীবিত দাতাদের প্রতিস্থাপন করা জরায়ু থেকে এরই মধ্যে ১১ শিশুর জন্ম হয়েছে৷ কিন্তু এবারই প্রথম মৃত এক নারীর শরীর থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপন করে শিশু জন্মদানের ঘটনা ঘটলো৷ জরায়ু প্রতিস্থাপনের সাত মাস পর গর্ভধারণ করেন সে নারী৷ ব্রাজিলের ৩২ বছর বয়সি ওই নারীর জরায়ু থেকে জন্ম নেয়া সেই সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা৷ দ্য ল্যানসেট নামের এক মেডিকেল জার্নালে এই ঘটনার কথা প্রকাশ করা হয়েছে৷ খবর ডয়চে ভেলের।

জার্নালে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে এই প্রতিস্থাপন করা হয়৷ জরায়ুর সমস্যার কারণে গর্ভধারণে অক্ষম হাজারো নারীর জন্য আশার আলো হয়ে আসতে পারে এই সংবাদ৷ এখন পর্যন্ত মৃতদেহ থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপনের ১০টি ঘটনার কথা জানা গেলেও সাফল্যের সাথে সন্তান জন্মদানের ঘটনা এটিই প্রথম৷

প্রতিস্থাপন করা নারী কোনো জরায়ু ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছিলেন৷ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে মায়ার-রোকিটানস্কি-ক্যুস্টার-হাউসার সিন্ড্রোম বলা হয়ে থাকে৷ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যাওয়ার সময় দাতার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর এবং তিনি তিন সন্তান জন্ম দিয়েছেন৷

জটিলতাহীন অপারেশন

দশ ঘণ্টা চলে এই জটিল এই অপারেশনে দাতার শরীর থেকে নেয়া জরায়ুকে গ্রহীতার শিরা, ধমনি, বিভিন্ন লিগামেন্ট এবং যোনিপথের সাথে সংযুক্ত করতে হয়েছে৷

শরীর যাতে নতুন অঙ্গ প্রত্যাখ্যান না করে সেজন্য অ্যান্টিমাক্রোবিয়াল, অ্যাসপিরিনসহ পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ড্রাগ দেয়া হয় গ্রহীতাকে৷ তবে অপারেশনের পাঁচ মাস পর পর্যন্ত প্রত্যাখ্যানের কোনো লক্ষণ দেখতে পাননি চিকিৎসকরা৷

প্রাকৃতির নিয়মে সবচেয়ে আদিম উপায় হচ্ছে ‘ভেজাইনাল ডেলিভারি’৷ এই উপায়ে সন্তান ‘বার্থ ক্যানেলের’ মাধ্যমে, মানে যোনিনালী দিয়ে মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসে৷ অবশ্য ঠিক কখন প্রসব হবে, তা আগেভাবে সঠিকভাবে জানা যায় না৷ অধিকাংশ নারী এই প্রক্রিয়াতেই গর্ভধারণের ৩৮-৪১ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করেন৷ এভাবে জন্ম নেয়া শিশুর রোগবালাই সংক্রমণের মাত্রা কম৷ তবে সন্তান প্রসবের সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয়৷

সাত মাস পর আগে থেকে ফ্রিজ করে রাখা ডিম্বাণুর প্রবেশ করিয়ে গর্ভধারণ করেন গ্রহীতা৷

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের ৩৫ সপ্তাহ তিন দিন পর প্রায় আড়াই কেজি ওজনের সুস্থ-সবল মেয়ে শিশুর জন্ম দেন সে নারী৷

জার্নাল প্রকাশের জন্য গবেষণাপত্র জমা দেয়ার সময় সন্তানের বয়স ছিল সাত মাস ২০ দিন, ওজন ৭ দশমিক ২ কেজি৷

আশার আলো

এই ঘটনাকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ‘মাইলফলক' হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাও পাওলো স্কুল অব মেডিসিন ইউনিভার্সিটির প্রতিস্থাপন দলের প্রধান চিকিৎসক দানি এইজেনবার্গ৷

তিনি বলেন, ‘‘জরায়ুর বন্ধ্যাত্বের শিকার নারীদের জন্য এই সাফল্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে৷''

এইজেনবার্গ জানান, ‘‘মৃত্যুর পরঅঙ্গদানে ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যা জীবিত দাতাদের চেয়ে বেশি৷ ফলে এই সাফল্য জরায়ু প্রতিস্থাপনে আরো গতি নিয়ে আসবে৷''

বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত জীবিত দাতাদের শরীর থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ৩৯টি৷ এর মধ্য থেকে ১১টি জন্মদান সফল হয়েছে৷ সুইডিশ ডাক্তার ম্যাটস ব্রানস্ট্রমের এক পরীক্ষামূলক অপারেশনে ২০১৩ সালে এই প্রক্রিয়ায় প্রথম শিশু জন্মদানের ঘটনা ঘটে৷

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ নারী-পুরুষ বন্ধ্যাত্বের শিকার৷ এর পেছনে নানা কারণ থাকলেও প্রতি ৫০০ জনে একজন নারীর বন্ধ্যাত্বের কারণ জরায়ুর সমস্যা৷

সবার ক্ষেত্রে এ কথা সত্য না হলেও, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মেয়েদের মাসিকের গড় চক্রকাল ২৮ দিন৷ অনেকের অবশ্য মাসিক অনিয়মিতও হয়ে থাকে৷ তাই ‘ওভুলেশন’ বা ডিম্বোস্ফোটনের সাতদিন পর্যন্ত স্বামী বা পার্টনারের সঙ্গে সহবাস করলে একজন নারীর গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি৷


(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/ডিসেম্বর ০৫,২০১৮)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর