thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৫,  ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

 সৌদি তরুণীকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করলো জাতিসংঘ

২০১৯ জানুয়ারি ০৯ ২১:৪৩:০৯
 সৌদি তরুণীকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করলো জাতিসংঘ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : নিজের পরিবার ছেড়ে পালানো এক সৌদি তরুণীকে একজন 'বৈধ শরণার্ধী' বলে ঘোষণা করে জাতিসংঘ তাকে আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুরোধ করেছে।

তাকে আশ্রয় দেয়া যায় কীনা, সেটি বিবেচনার জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা অস্ট্রেলিয়াকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর পর অস্ট্রেলিয়া তা 'বিবেচনার' আশ্বাস দিয়েছে। খবর বিবিসির।

রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুন নামের এই তরুণী ব্যাংককের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করায় তাঁর জীবন এখন হুমকির মুখে। "আমার পরিবার অতি তুচ্ছ অপরাধেও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়" - রয়টারকে বলেন তিনি।

সৌদি আরবে ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। মিজ রাহাফ এখন হোটেল কক্ষ থেকে তার অবস্থা জানিয়ে নিয়মিত টুইট করছেন।

জাতিসংঘের ঘোষণার পর তিনি লেখেন, কাউকে আপনার পাখা ভেঙে দিতে দেবেন না। আপনি স্বাধীন, লড়াই করে আপনার অধিকার আদায় করুন।"

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল কানুনকে আশ্রয় দেবার ব্যাপারটি তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ীই বিবেচনা করবে।

সৌদি তরুণীটি থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু থাই কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

রাহাফের ঘটনা নিয়ে অন্য সৌদি নারীরাও কথা বলতে শুরু করেছেন। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে 'সারা' ছদ্মনামধারী এক সৌদি নারী বলেন, "রাহাফ এক অনুপ্রেরণা, কিন্তু সেই যে প্রথম এ কাজ করলো তা নয়, এবং নিশ্চিতভাবেই শেষ জনও নয়। "

"আমরা কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি তা অন্যেরা বুঝবে না। আমরা স্বাধীনতার স্বাদ কি তা জানি না। আমার পাসপোর্ট সবসময় তার নিজের কাছে রাখেন আমার বাবা। ঘুমানোর সময়ও তার পাশে রাখেন সেটা। আমরাআর অভিভাবকত্ব চাই না, আমরা বাড়ির বাইরে যেতে চাই, পরিবারকে ছাড়া স্টারবাকসে কফি খেতে চাই" - বলেন এ নারী।

ব্যাংকক থেকে বিবিসির জোনাথন হেড জানাচ্ছেন রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে ঘিরে ব্যাংককে নাটকীয় উত্তেজনা চলছে গত কদিন ধরেই।

এই সৌদি তরুণী নিজের হোটেল কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, যাতে থাই কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত পাঠাতে না পারে।

শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ তাকে শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়ায় এখন কোন না কোন দেশকে তাকে আশ্রয় দিতে হবে।

এখন অস্ট্রেলিয়া সরকার এক বিবৃতিতে জানাচ্ছে, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা তাদের অনুরোধ জানিয়েছে, রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেয়ার কথা বিবেচনার জন্য ।

থাই সরকার ইতোমধ্যে রাহাফ মোহাম্মদ আল-কানুনকে ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তার সঙ্গে দেখা করতে ব্যাংককে ছুটে এসেছেন তার বাবা এবং ভাই।

কিন্তু থাই কর্তৃপক্ষ বলছে, কেবল মাত্র জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষেই তার সঙ্গে দেখা করা যাবে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, এই সিদ্ধান্ত আসলে পুরোপুরি মিস মোহাম্মদ আল-কানুনের ওপর।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/জানুয়ারি ০৯,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর