thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫,  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বিএনপির হতাশ হওয়ার কারণ নেই: শাহজাহান

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৬:৫৫:২১
বিএনপির হতাশ হওয়ার কারণ নেই: শাহজাহান

খুলনা ব্যুরো: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই বলে দাবি করেছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্র, ধ্বংস হয়েছে নাগরিকদের ভোট দেয়ার অধিকার। নাগরিকরা হারিয়েছে রাষ্ট্রের মালিকানা। সমস্ত রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে দেশের ও গণতন্ত্রের সর্বনাশ করেছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে গণধর্ষণ করেছে। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য এই সরকারকেই মহাবিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে বলে বলে হুশিয়ার করেন তিনি।

বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ দেশে যদি প্রথম কেউ সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে তবে সেই দলটি হলো আওয়ামী লীগ। এরা কখনোই জনগনের ওপর আস্থাশীল নয় বলেই যে কোন উপায়ে ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়। ৭৩ এর নির্বাচনের পর তারা একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ গোটা রাষ্ট্র শক্তিকে পৈশাচিক কায়দায় ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, অতীতে বাকশাল করে তারা টিকে থাকতে পারেনি। এবারও দানবীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটবে। তবে তার জন্য নীপিড়ীত নির্যাতিত তৃণমূলের কর্মীদের পাশে থেকে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শাহজাহান বলেন, অনেকেই মনে করেছিলেন ১৪ সালের নির্বাচনে না যেয়ে বিএনপি ভুল করেছিল। কিন্ত এবারের ভোটের মধ্য দিয়ে সেই ভুল ভেঙ্গেছে। প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী দল এবং তাদের অধিনে কোন অবাধ সুষ্ঠু ভোট হতে পারেনা।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, দলের জন্য তার ত্যাগের তুলনায় আমাদের ত্যাগ কিছুই নয়। তিনি মুক্তি পেলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, জনগনের ভোটের অধিকার ফিরে আসবে।

খুলনায় ‘জাতীয় নির্বাচন ২০১৮: অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা ও করনীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান এ কথা বলেন। শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক আলহাজ্ব লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি খুলনা বিভাগের ব্যানারে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে দুপুর ১ টার দিকে সভার কাজ শুরু হয়। এতে দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জয়ন্ত কুমার কুন্ডুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক সোহরাবউদ্দিন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড, ওবায়দুল ইসলাম, যশোর-১ আসনের প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, জাতীয পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কুষ্টিযা-২ আসনের প্রার্থী আহাসন হাবিব লিংকন, এনপিপির চেয়ারম্যান ও নড়াইল-২ আসনের প্রার্থী ড. ফরিদউদ্দিন ফরহাদ, খুলনা জেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল, যশোর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মাগুরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মো. আক্তারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সহ তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নড়াইল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী এ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপি সভাপতি এম এ সালাম, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতউল্লাহ পলাশ, মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী জাভেদ মাসুদ মিল্টন, যশোর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ অরুন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবার কারণে শাসক দলের রোষানলে পড়ে ক্ষতির শিকার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে দাড়ানোর জন্য দেশের প্রতিটি বিভাগে সাংগঠনিক সফর ও সভা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। সাত বিভাগীয় সদরের জন্য পৃথক পৃথক ভাবে গঠিত হয় সাতটি কমিটি। খুলনা বিভাগীয় সভার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হলো। খুলনার এ সভায় জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে খুলনা বিভাগের নেতৃবৃন্দ, বিভাগের ১০ জেলা ও এক মহানগর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, বিভাগের ৩৬ টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিকারী প্রার্থীবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

(দ্য রিপোর্ট/এটি/এমএসআর/ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর